সিরিয়ান সিভিল ডিফেন্স গ্রুপের প্রধান রায়েদ সালেহ আল জাজিরাকে বলেন, ‘মধ্যরাতের ঠিক আগে আগে সারাকিব এলাকায় হেলিকপ্টার থেকে ক্লোরিন সিলিন্ডারসহ ৫টি বিস্ফোরক ব্যারেল ফেলা হয়। হামলার পর ১৮ নারী ও ১০ শিশুসহ অন্তত ৩৩ বেসামরিককে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমরা ধারণা করছি এটি ক্লোরিন গ্যাস হামলা। কারণ এ গ্যাসের গন্ধ ও আহত হওয়ার ধরন আমাদের পরিচিত। সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা আহতদেরকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছে।’
আহতদের দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানান সালেহ।
সিভিল ডিফেন্স গ্রুপ নামের উদ্ধারকারী সংগঠনটি হোয়াইট হেলমেটস নামেও পরিচিত। সংগঠনের পক্ষ থেকে ইউটিউবে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে কিছু মানুষ শ্বাস নিতে পারছেন না, তাদেরকে উদ্ধারকারীরা অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে দিচ্ছেন। এর আগে সোমবার ইদলিবে সারাকিবের কাছাকাছি একটি এলাকায় একটি রুশ হেলিকপ্টার ভূপাতিত করা হয়। ওই ঘটনায় ৫ রুশ সেনা নিহত হয়েছেন বলে রাশিয়ার পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়। ২০১৫ সালের অক্টোবরে সিরিয়ায় অভিযান শুরুর পর এটিই সবচেয়ে বড় প্রাণহানি বলে স্বীকার করে রাশিয়া। মানবাধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, মঙ্গলবারের বিষাক্ত গ্যাস হামলাটি প্রতিশোধমূলক হামলা হতে পারে। তবে এ ব্যাপারে এখনও সিরিয়ার সরকারি বাহিনী কিংবা তাদের মিত্র রুশ বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনও বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
মানবাধিকারকর্মীদের দাবি অনুযায়ী সারাকিবে এটাই প্রথম বিষাক্ত গ্যাস বা ক্লোরিন গ্যাস হামলা নয়। গত মে মাসেও এ এলাকায় একই ধরনের হামলা হয়েছিল। আর তার কয়েক মাস আগে সারাকিবের কাছাকাছি এলাকায়ও বিষাক্ত গ্যাস হামলা হয়। বিভিন্ন সময়ে সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে রাসায়নিক বোমা হামলার জন্য সিরিয়ার সরকারকে দায়ী করে আসা হচ্ছে। সিরিয়ান আমেরিকান মেডিক্যাল সোসাইটির হিসেব অনুযায়ী, ২০১১ সালে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৬০টিরও বেশি রাসায়নিক হামলা হয়েছে। ওইসব হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা ১,৪৯১। আহত হয়েছে আরও অন্তত ১৪,৫৮১ জন।
/এফইউ/