যুক্তরাষ্ট্রের জঙ্গিবাদ-মানচিত্র

বাংলাদেশ আইএসের 'উঠতি ঘাঁটি' হিসেবে চিহ্নিত!

Is

 

 

হোয়াইট হাউজ থেকে পাওয়া এক বিশেষ মানচিত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিবেচনায় বাংলাদেশ আইএস-এর উঠতি ঘাঁটিতে রূপান্তরিত হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের সম্প্রসারণ সংক্রান্ত ওই মানচিত্র অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর কার্যক্রম আগের চেয়ে তিনগুণ বাড়ার কথা জনিয়েছে এনবিসি।

এনবিসি নিউজের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই মানচিত্র তৈরি করেছে জাতীয় সন্ত্রাসবাদবিরোধী কেন্দ্র (ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টার)। ‘বিশেষ ধারার ব্রিফিং তথ্যের’ অংশ হিসেবেই  এটি  তৈরি করা হয়েছে। ‘আগস্ট ২০১৬’ তারিখ দিয়ে হোয়াইট হাউস তথ্যগুলো গ্রহণ করেছে।

এই মানচিত্রে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মূল ঘাঁটি, অফিসিয়িাল ঘাঁটি ও উঠতি ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত দেশগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে ১৮টি দেশে পুরোপুরি সক্রিয় আছে আইএস। মানচিত্রে নতুন একটি বিভাগ তৈরি করা হয়েছে। এখানে মোট ছয়টি দেশের নাম রয়েছে যেগুলো আইএসের উঠতি ঘাঁটি হিসেবে তৈরি হতে যাচ্ছে। এ দেশগুলো হচ্ছে– বাংলাদেশ, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, মালি, ফিলিপাইন ও সোমালিয়া।

মানচিত্র অনুযায়ী আগের চেয়ে তিনগুণ বেশি স্থানে বেড়েছে আইএসের কার্যক্রম।

ইরাক ও সিরিয়ার পর গত মঙ্গলবার তৃতীয় কোনও দেশ হিসেবে লিবিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, জঙ্গিদের উঠতি ঘাঁটির তালিকায় পরবর্তী সংযোজন কোন দেশ? এমন পরিস্থিতিতেই বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের সম্প্রসারণ নিয়ে হোয়াইট হাউজের তৈরি করা  বিশেষ ধরনের এ মানচিত্র প্রকাশ পায়। চলতি মাসেই এটি তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর।

মার্কিন সামরিক বাহিনী ২০১৪ সালে আইএসকে ধ্বংস করতে অভিযান শুরু করে। তখন মাত্র সাতটি দেশে এ কার্যক্রম চালত। ২০১৫ সালে ১৩টি দেশে আইএসের কার্যক্রম চলত।

এনবিসি নিউজের সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশ্লেষক ম্যালকম ন্যান্স। তিনি বলেন, ইরাক ও সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আইএসের শক্তিশালী ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। তবে নতুন এই মানচিত্রে তাদের বিস্তৃত এলাকার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে যে আইএসের সঙ্গে যুদ্ধের পরিসর ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে।

এ প্রতিবেদন প্রকাশের দুইদিন আগে অবশ্য বাংলাদেশের আইএসের উপস্থিতির  বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আইএসের কোনও অস্তিত্ব নেই। যারা এখানে জঙ্গিবাদের সঙ্গে যুক্ত তারা জেএমবি সদস্য। প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।

/এমপি/