ইস্তানবুলের ইয়েনিকাপি স্কয়ারে এই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। তুরস্কের সরকারি সূত্রের ভাষ্য, সমাবেশে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ অংশ নেন। গত মাসের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে তারা সেখানে জড়ো হন।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম, প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকার পিপলস পার্টির (সিএইচটি) প্রধান কেমাল কিলিসদারোগ্লু এবং আরেক বিরোধী দল ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টির (এমএইচপি) প্রধান দেভলেত বাহসেলি এই মহাসমাবেশে অংশ নেন। গত কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনও যৌথ সমাবেশে অংশ নিলেন তুরস্কের সরকারি ও বিরোধীদলীয় রাজনীতিকরা।
এই মহাসমাবেশের নাম দেওয়া হয় ‘গণতন্ত্র ও শহীদ সমাবেশ’। দলীয় কোনও ব্যানার না এনে শুধু তুরস্কের পতাকা নিয়ে মহাসমাবেশে উপস্থিত হতে কর্মীদের আগে থেকেই নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। মহাসমাবেশের আগে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এরদোয়ান বলেন, ‘সেখানে আমরা একটি জাতি হিসেবে, একটি পতাকা নিয়ে, একটি মাতৃভূমির জন্য, একটি রাষ্ট্রের জন্য, একটি একক চেতনার জন্য একসঙ্গে দাঁড়াবো।’ সে অনুযায়ী এতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের প্রায় সবার হাতেই ছিল তুরস্কের জাতীয় পতাকা।
বক্তব্যের শুরুতে এরদোয়ান বলেন, এই মুহূর্তে পুরো দুনিয়া আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে। নিজেদের জন্য আপনাদের গর্ববোধ করা উচিত। আপনারা সবাই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। আপনারা প্রত্যেকেই বীরপুরুষ।
ব্যর্থ অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িতদের মৃত্যুদণ্ডের বিষয়েও কথা বলেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে তুরস্কের পার্লামেন্ট সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আমি আগাম ঘোষণা দিচ্ছি, পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করব।’
ইস্তানবুল থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক এইস কারাবাত এ মহাসমাবেশকে ‘তুরস্কের ইতিহাসের বৃহত্তম রাজনৈতিক সমাবেশ’ হিসেবে অভিহিত করেন।
অভ্যুত্থানবিরোধী প্রচারণার অংশ হিসেবে রাজধানী ছাড়াও দেশজুড়ে এ ধরনের সমাবেশ আয়োজনের কথা রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি।
মহাসমাবেশের ভিডিও:
/এমপি/