আইএসের গুলি থেকে বাঁচতে ১৬ ঘণ্টা ধরে হাঁটছেন তারা...

hawija

‘আমরা ১৬ ঘণ্টা ধরে হাঁটছি। হাউয়িজা শহরে আমরা নিদারুণ ভোগান্তির মধ্যে ছিলাম। আইএস সদস্যরা আমাদের ওপর গুলিবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে। আমাদের কিছুই নেই। ঘুমানোর বিছানা, কম্বল, পানীয় জল সবকিছুরই অভাব।’

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে বলছিলেন ইরাকের হাউয়িজা শহরের এক উদ্বাস্তু নারী। তার মতো করেই ওই শহর ছেড়ে ইরাকিরা পালাচ্ছেন পালানোর সময় আইএস সদস্যদের গুলিতে এক ইরাকি নাগরিক নিহতও হয়েছেন। তা সত্ত্বেও মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে শহর থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

উল্লেখ্য, হাউয়িজা কুরদিশ অধ্যুষিত কিরকুকের ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কিরকুক প্রদেশ মূলত কুরদিশ ও আইএস এই দুই শক্তির অধীনে বিভক্ত।    ২০১৪ সালের জুন মাসে হাউয়িজা আইএসের অধীনে চলে যায়। ফাল্লুজা দখলের কিছুদিন পরেই হাউয়িজা দখল করে ফেলে আইএস।

সম্প্রতি আইএসের হাতে থাকা ওই ইরাকি শহরের পুনর্দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে ইরাকি বাহিনী। শহরের বাসিন্দারা জানান, এর প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার ভারী বন্দুকযুদ্ধ শুরু করে আইএস সদস্যরা। সোমবার থেকেই তাই রাতের অন্ধকারে শহরের বাসিন্দারা পালাতে শুরু করে। আইএস অধ্যুষিত অঞ্চল ত্যাগ করে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য অপরাধ বলে বিবেচনা করা হলেও শত শত ইরাকিকে হাউয়িজা শহর ছেড়ে আসতে দেখা গেছে।   

পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন, এমন এক নারী আলজাজিরাকে বলেন, ‘আমরা পালিয়ে এসেছি কারণ আইএস আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আশা করি ওই পাড়ে ইরাকি বাহিনীর অধীনস্ত অঞ্চল আমাদের জন্য ভালো হবে। আইএস আমাদের ধ্বংস করে ফেলছে। কিন্তু ওখানে অনেকেই আছে যারা পালাতে পারেনি।’

উল্লেখ্য, আইএস ইরাকের রাজধানী বাগদাদের বড় অংশ শাসন করেছে অনেকদিন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে তারা কিছুটা হলেও দমে গেছে।

ডিসেম্বরের শেষে রামাদি দখলের পর থেকেই ইরাকি বাহিনী ফাল্লুজা পুনর্দখলের জন্য যুদ্ধ শুরু করে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকার মসুলসহ অন্যান্য নগরী পুনর্দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।

সূত্র আল জাজিরা

/ইউআর/বিএ/