লিবিয়ার উপকূলীয় নগরী সিরতে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর হাত থেকে মুক্ত করার পথে আরও অগ্রসর হয়েছে লিবিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী। নগরীর কেন্দ্রীয় ‘ডিস্ট্রিক্ট টু’ নিজেদের দখলে নিয়েছে বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী শিগগির সমগ্র শহরের পুনর্দখল নিতে সমর্থ হবেন তারা।
মঙ্গলবার সিরতের পার্শ্ববর্তী শহর মিসতারায় লিবিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ‘ডিস্ট্রিক্ট টু’ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর এখন ‘ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান’ দখলের জন্য লড়াই চলছে। এটিই এই নগরীতে আইএস-এর দখলে থাকা সর্বশেষ এলাকা।
সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, “‘ডিস্ট্রিক্ট টু’ মুক্ত করা হয়েছে। এখন ‘ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান’ মুক্ত করার জন্য লড়াই চলছে। এর আশেপাশের এলাকা এখন আমাদের বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির জন্মস্থান সিরতে নগরী গত বছর থেকে আইএস-এর দখলে রয়েছে। চলতি বছরের মে মাস থেকে জাতিসংঘ সমর্থিত জাতীয় ঐক্যের সরকার সিরতে পুনরুদ্ধারের জন্য অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার সহায়তায় ১ আগস্ট সরকারি বাহিনী সিরতের কেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হতে সক্ষম হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের জন্যই আমরা লিবিয়া সরকারের অনুগত বাহিনীকে সাহায্য করছি, যেন তারা আইএস-কে সিরতে থেকে উচ্ছেদ করতে পারে।
বিরোধীদমনকে কারণ দেখিয়ে আন্তর্জাতিক জোট ২০১১ সালে লিবিয়ার তৎকালীন স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে। এতে ধসে পড়ে সেখানকার অর্থনীতি। গাদ্দাফির অধীনে সেখানকার জনগণের জন্য যে সামাজিক সুরক্ষার নীতি ছিল, সেই রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি ভেঙে পড়ায় দিশেহারা হয়ে পড়ে মানুষ। এর পর থেকেই দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলছে। বিভিন্ন মতবাদ ও গোষ্ঠীগত তৎপরতায় দেশটি কার্যত বিভিন্ন অংশে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে এখনও অনেক বিদ্রোহীগোষ্ঠী স্বীকৃতি দেয়নি। সূত্র: আল-জাজিরা।
/এসএ/বিএ/