রাশিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ প্রস্তাবনা লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পর রাশিয়া দাবি করেছে, ইরানি বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে তারা জাতিসংঘ প্রস্তাবনা লঙ্ঘন করেনি। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাস-এর বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
বুধবার (১৭ আগস্ট) দ্বিতীয় দিনের মতো সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) ঘাঁটিতে হামলা চালায় রুশ যুদ্ধবিমান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, ইরানি ঘাঁটি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাবনা লঙ্ঘন করেছে রাশিয়া।
মার্কিন অভিযোগের জবাবে রাশিয়া দাবি করেছে, তারা কোনও জাতিসংঘ প্রস্তাবনা লঙ্ঘন করেনি। বুধবার রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, ‘ইরানের কাছে কোনও যুদ্ধবিমান সরবরাহ, বিক্রয়, বা স্থানান্তর করা হয়নি।’
এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র মার্ক টোনার বলেছিলেন, ইরানের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে রাশিয়া সম্ভবত জাতিসংঘ প্রস্তাবনা ২২৩১ লঙ্ঘন করেছে। ওই প্রস্তাবনায় স্বাক্ষরকারী কোনও দেশ ইরানকে যুদ্ধবিমান সরবরাহ, বিক্রয়, বা স্থানান্তর করতে পারবে না।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের এসইউ-৩৪ বোমারু বিমানগুলো ইরানের হামাদান বিমানঘাঁটি থেকে সিরিয়ায় হামলা চালিয়েছে। সিরিয়ার দেইর আল-জোর প্রদেশে আইএস-এর উপস্থিতি লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় নগরী আলেপ্পোতে এক ইরানি ঘাঁটি থেকে বিমান হামলা চালিয়েছিল রাশিয়া।
সিরিয়ায় পাঁচ বছর ধরে চলমান গৃহযুদ্ধে রাশিয়ার বিদেশি ঘাঁটি ব্যবহারের ঘটনা এটাই প্রথম। এর আগে সিরিয়ায় অভিযান চালাতে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনও দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করেনি রাশিয়া।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে রাশিয়া জানিয়েছে, এসইউ-৩৪ এবং টিইউ-২২ নামে দুটি যুদ্ধবিমান ইরানের হামাদান বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছে। বিমান দুটি আলেপ্পোতে আইএস ও আল-নুসরা ফ্রন্টকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করবে। এ ছাড়াও দেইর আল-জোর এবং ইদলিবেও হামলা চালাবে রাশিয়া।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আইএস-এর পাঁচটি প্রধান অস্ত্রাগার, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও পরিচালনা ফাঁড়িতে আক্রমণ চালানো হবে। এ সংক্রান্ত একটি অ্যানিমেশন ভিডিও প্রকাশ করেছে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। এতে রাশিয়ান টিইউ-২২এম৩ নামের যুদ্ধবিমানকে সিরিয়ার ‘জঙ্গিদের লক্ষ্য করে’ বোমা হামলা চালাতে দেখা যায়।
২০১১ সালে শুরু হওয়া সিরীয় গৃহযুদ্ধে জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, প্রায় ৪ লাখ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানান সিরিয়ায় জাতিসংঘের বিশেষ দূত স্টিফেন মিস্তুরা। লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়েছেন।
সূত্র: আল-জাজিরা।
/এসএ/