গত বছর মিশোগান রাজ্যের একটি খামারবাড়িতে অভিযান চালানোর সময় ঘটনাস্থলে ইচ্ছে করেই ২২ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে মেক্সিকোর ফেডারেল পুলিশ। তাছাড়া ঘটনাস্থলে অন্তত দুই ব্যক্তির ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল এবং বেশ কয়েকটি মরদেহ সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। গত বছরের বিতর্কিত ওই ঘটনার তদন্ত শেষে দেশটির জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সেইসঙ্গে ফেডারেল পুলিশের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় মাদকসংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলোর মধ্যে শত্রুতার কারণে মিশোগান রাজ্যটি মেক্সিকোর সহিংস রাজ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম। ২০১৫ সালের মে মাসে তানহুয়াতো শহরের একটি খামারবাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান চালায় পুলিশ। সেসময় সংঘর্ষে মাদক পাচারকারী গোষ্ঠীর সর্বমোট ৪২ জন সন্দেহভাজন সদস্য নিহত হয়। এক পুলিশ কর্মকর্তাও সেসময় নিহত হন। খামারবাড়িতে ওই অভিযানে ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বরে অভিযোগ ওঠে। তবে মেক্সিকো সরকার এ ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়নি বলে বরাবরই দাবি করে আসছে।
মেক্সিকোর মানবাধিকার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানে নিহতদের ৪০ জন গুলিবিদ্ধ হন, একজন আগুনে পুড়ে মারা যান এবং আরেকজন পালাতে গিয়ে মারা যান।
ওই সহিংসতার ঘটনা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে তাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে মানবাধিকার কমিশন। ফেডারেল পুলিশের পক্ষ থেকে সে সময় দাবি করা হয়েছিল যে একটি ট্রাক তাদের গাড়ির সামনে এসে বাধা দিয়েছিল। পরে ট্রাক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলে তারা অভিযান চালাতে বাধ্য হন। তবে মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দাবির পক্ষে সরকার যথাযথ প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। সূত্র: বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান
/এফইউ/