সাবমেরিনের ছবি তুলে মার্কিন নাবিক জেলে

পারমাণবিক বোমা ধারণে সক্ষম একটি সাবমেরিনের বিশেষ অংশের ছবি তোলার জন্য কারাগারে যেতে হলো মার্কিন নৌবাহিনীর এক নাবিকের। ওই নাবিকের নাম ক্রিস্টিয়ান সসিয়ার।

মার্কিন সাবমেরিনের সেই ছবি

২০০৯ সালে পারমাণবিক সাবমেরিন ইউএসএস আলেক্সান্দ্রিয়া অভ্যন্তরের ছয়টি ছবি তুলেছিলেন ক্রিস্টিয়ান। যার অনুমতি তার ছিল না। ২২ বছরের ক্রিস্টিয়ান তখন ওই সাবমেরিনে মেশিনিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

চলতি বছরের মে মাসে ‘বোকামিপূর্ণ ভুলের জন্য’ দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ক্রিস্টিয়ানকে ওই আটকাদেশ দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

শুক্রবার ব্রিজটাউনের ফেডারেল আদালত ক্রিস্টিয়ান সসিয়ারকে এক বছরের কারাবাসের রায় দিয়েছেন। সেই সঙ্গে কারাবাসের পর আরও ছয় মাস গৃহবন্দি থাকা এবং তিন বছর তাকে নজরদারিতে রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়।

ক্রিস্টিয়ানের তোলা ওই ছবিগুলোতে সাবমেরিনের নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর কম্পার্টমেন্ট, অক্সিলারি স্টিম প্রপালশন প্যানেল এবং ম্যান্যুভারিং কম্পার্টমেন্টের ছবি দেখা যায় বলে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।  এই অপরাধের জন্য তার পাঁচ থেকে ছয় বছরের জেল হতে পারতো।

ক্রিস্টিয়ানের আইনজীবীদের দাবি, তিনি জানতেন যে, ওই জায়গার ছবি তোলার অধিকার তার নেই। তবে তিনি কোথায় কাজ করেছেন, তা পরিবার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেখানোর জন্যই তিনি ছবিগুলো তুলেছিলেন। অনধিকার কেউ ওই ছবি দেখেননি বলেও তারা দাবি করেন।

ক্রিস্টিয়ানের আইনজীবী গ্রেগ রিনকি বলেন, ‘এটা ছিল এক যুবকের বোকামিপূর্ণ ভুল। এটা খুবই কষ্টের, কারণ ক্রিস্টিয়ান সসিয়ার এক চমৎকার যুবক। আমরা বিশ্বাস করি না যে, তিনি খারাপ উদ্দেশে ওই কাজ করেছেন।’

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং নৌবাহিনীর অভ্যন্তরীন তদন্ত কর্মকর্তারা দীর্ঘ অনুসন্ধানে তার ওই ছবি তোলার সঙ্গে বাইরের কোনও মানুষের সংযোগ বের করতে পারেনি। কর্মকর্তারা জানান, ২০১২ সালে এফবিআই-এর সঙ্গে এক সাক্ষাতের পর ক্রিস্টিয়ান তার ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও মেমোরি কার্ড ভেঙে ফেলেছিলেন। তাই তারা নিশ্চিত নন, ছবিগুলো বাইরের কেউ দেখেছে কি না।

তদন্তকারীরা আদালতের কাছে ক্রিস্টিয়ানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদন করে। কিন্তু অভিযোগ নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তার সাজা কমিয়ে দেন।  

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

/এসএ/বিএ/