উল্লেখ্য, স্থানীয় সময় শনিবার (২০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কের গাজিয়ানটেপের শাহিনবে এলাকার একটি বিয়ে বাড়িতে এ হামলা হয়। এ বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা অন্তত ৩০ বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। আহত হয়েছে আরও অন্তত ৯৪ জন। এখন পর্যন্ত কেউ এ হামলার দায় স্বীকার না করলেও এ ঘটনায় আইএস জড়িত থাকতে পারে বলে এরইমধ্যে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তায়্যিব এরদোয়ান সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
হামলার পর এক বিবৃতিতে কুর্দিপন্থী দল পিপলস’ ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এইচডিপি) দাবি করেছে, ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে তাদের দলের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে অনেক নারী ও শিশুরও উপস্থিতি ছিল।
কুর্দি বাহিনী সিরিয়ায় আইএস এর বিরুদ্ধে লড়াই করায় অনেক জিহাদি সংগঠন কুর্দিদেরকে নিজেদের প্রধান প্রধান শত্রু গোষ্ঠীর একটি বলে বিবেচনা করে থাকে।
গাজিয়ানটেপের হামলা প্রসঙ্গে এরদোয়ান বলেছেন, ‘আরব, কুর্দি, তুর্কমেনের মতো বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজনের বীজ বপন করতে এবং জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিতে গাজিয়ানটেপে হামলা চালানো হয়েছে।’
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তায়্যিব এরদোয়ান রবিবার এ হামলার ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একটি বিবৃতি দেন। এ হামলা আইএস চালিয়ে থাকতে পারে বলে বিবৃতিতে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইসলামী চিন্তাবিদ ফেতুল্লাহ গুলেন (যাকে ১৫ জুলাইয়ের অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার জন্য দায়ী করা হয়) এর বাহিনী, নিষিদ্ধ ঘোষিত কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) এবং আইএস যাদেরকে গাজিয়ানটেপের হামলাকারী বলে মনে হচ্ছে-এ তিনটি গোষ্ঠীর মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। হামলাকারীদের উদ্দেশ্যে আমাদের দেশ ও জাতির পক্ষ থেকে আবারও একটিই বার্তা দিচ্ছি। আর হলো-আপনারা সফল হবেন না!’
এর আগে তুরস্কের উপ-প্রধানমন্ত্রী মেহমেত সিমসেক এই হামলাকে বর্বরোচিত উল্লেখ করে বলেন, ‘মনে হচ্ছে এটি একটি আত্মঘাতী বোমা হামলা।’
গত মে মাসে কুর্দি অধ্যুষিত গাজিয়ানটেপ শহরে আত্মঘাতী হামলায় দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন। গত জুনে ইস্তানবুল বিমানবন্দরে চালানো হামলায় নিহত হন অন্তত ৪৪ জন। ওই হামলার দায় স্বীকার না করলেও এতে আইএস-এর সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে তুর্কি সরকার দাবি করে থাকে। সূত্র: এএফপি, এনডিটিভি, গার্ডিয়ান
/এফইউ/