ভারতে ফারাক্কা বাঁধ তুলে দেওয়ার দাবি নীতিশ কুমারের

বিগত চার দশক ধরে বিতর্কিত ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ এতদিন শোনা গেছে বাংলাদেশের কাছ থেকে–এবারে ঠিক সেই কথারই প্রতিধ্বনি করলেন ভারতের অন্যতম ক্ষমতাবান রাজনীতিবিদ ও বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার।

বিহারের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করতে গিয়ে নীতিশ কুমার দাবি জানিয়েছেন–‘ফারাক্কার কারণেই প্রতি বছর বিহারে প্রবল বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, তাই এই বাঁধটাই তুলে দেওয়া দরকার’।

নীতিশ জানিয়েছেন, ‘ফারাক্কা তৈরি হওয়ার পর থেকেই গঙ্গার উজানে বিপুল পরিমাণে সিল্ট বা পলি পড়া শুরু হয়েছে–আর তার জেরে নদীর গভীরতা কমে গিয়ে বিহারে বন্যা সৃষ্টি করছে।’

১৯৭৫ সালে গঙ্গার ওপরে তৈরি হয়েছিল ফারাক্কা ব্যারাজ। তার পর থেকে পরিস্থিতি ক্রমশই খারাপ থেকে আরও খারাপ হয়েছে, আর এখন প্রতি বছর বর্ষার মরশুমে বিহার ও উত্তরপ্রদেশে বন্যাটা প্রায় রুটিনে পরিণত হয়েছে।

এ বছরেই তৃতীয়বার বিহারের ভোটে জিতে টানা তিন নম্বর টার্মে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর পদে এসেছেন নীতিশ কুমার। তিনি দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিকদের অন্যতম–কেন্দ্রীয় সরকারও চট করে তার কথা ফেলতে পারে না।

সেই নীতিশ কুমার এদিন আরও জানিয়েছেন, ‘ফারাক্কার বিরুদ্ধে তার এই প্রতিবাদ নতুন কিছু নয়–গত দশ বছর ধরেই তিনি বিহারকে বন্যা থেকে রক্ষা করতে ফারাক্কা সরিয়ে দেওয়ার কথা বলে আসছেন।’

এমন কী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের আমলেও তিনি কেন্দ্রের কাছে একই দাবি জানিয়েছিলেন বলে নীতিশ দাবি করেছেন। তবে তখন সে কথা প্রকাশ্যে আসেনি।

ফারাক্কা বাঁধের জেরেই বাংলাদেশে পদ্মার প্রবাহ শুকিয়ে গেছে, দেশটিতে এই অভিযোগ উঠছে গত চার দশক ধরেই। ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে ১৯৭৬’র মে মাসে মাওলানা ভাসানীর বিখ্যাত লং মার্চ সে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেরও অংশ হয়ে আছে।

ফলে ফারাক্কার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ-নীতি নির্ধারক-পরিবেশবিদদের একটা অংশ বহুকাল ধরে সরব হলেও আজ ভারতের একটি রাজ্যের সরকার ও তার প্রধান এই বাঁধের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন, এ ঘটনা নজিরবিহীন।

ফারাক্কা বাঁধ অবশ্য ভৌগোলিকভাবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে অবস্থিত–আর ফারাক্কা বাঁধ তৈরি করার প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল গঙ্গার শাখা হুগলী নদীতে বাড়তি পানি এনে কলকাতা বন্দরকে জিইয়ে তোলা।

ফারাক্কার ব্যাপারে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে অবশ্য বিহার বা পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও গঙ্গা অববাহিকার সব রাজ্যের সঙ্গেই পরামর্শ করতে হবে।

তবে তা সত্ত্বেও বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার যেভাবে ফারাক্কা বাঁধের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর দরবারে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন, তাতে চার দশকের এই ব্যারেজটির ভবিষ্যৎ নিয়েই গুরুতর প্রশ্ন উঠে গেছে বলে বিশেষজ্ঞরা অনেকে মনে করছেন।             

/টিএন/

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের দিকে ফারাক্কায় গেট খুলে দেবে ভারত