তুরস্কের সেনাসূত্রের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, সীমান্ত অঞ্চলকে আইএসমুক্ত করার শপথ নিয়েছে। জারাব্লাস মুক্ত করা গেলে তুরস্কের সীমান্ত অঞ্চল থেকে সরে যেতে বাধ্য হবে আইএস।
তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘তুরস্কের আলেপ্পো প্রদেশের জারাব্লাস জেলাকে আইএসমুক্ত করতে তুর্কি সামরিক বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক বিমান অভিযান পরিচালনা করছে। ’ এদিকে তুর্কি সেনরাসূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ‘তুরস্ক যখন মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর আইএসবিরোধী অভিযানকে সমর্থন করছে তুরস্কের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অঞ্চলগত অখণ্ডতা হুমকিতে পড়েছে। তখন এই অভিযানের লক্ষ্য হলো আইএসের সেই হুমকি প্রতিরোধ করা।’
জারাব্লাস এলাকার ওই হামলার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো সিরিয়ার সীমান্ত অঞ্চলে হামলা চালালো তুরস্ক। পরে স্থল অভিযানের জন্য ট্যাঙ্কগুলোকে সীমান্ত অঞ্চলের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। সে সময় ট্যাঙ্ক থেকে গোলাবর্ষণ করা হচ্ছিলো। তুরস্কের বিশেষ বাহিনী ইতোমধ্যেই সিরিয়ার অভ্যন্তরে জারাব্লাস আইএসমুক্ত করার অভিযানের অংশ হিসেবে ওই শহরে নিয়োজিত রয়েছে।
তুরস্ক এই অঞ্চলে সিরীয় কুর্দিদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালাচ্ছে। গাজিয়ানট্রিপ থেকে বিবিসির একজন প্রতিবেদক বলছেন, আইএস-এর ফাঁকাস্থান যেন কুর্দিদের দ্বারা পূরণ না হয়, তা নিশ্চিত করতেই কুর্দিবিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে ঐতিহাসিকভাবে কুর্দিবিরোধী তুরস্ক। তিনি মনে করছেন, আংকারা ভীত যে সিরিয়ায় আইএসের দখলীকৃত অঞ্চলগুলো কুর্দিরা পুনরুদ্ধার করে সেখানে স্বশাসিত সরকারব্যবস্থা শুরু করতে পারে। তা যেন সম্ভব না হয়, তা নিশ্চিত করতেই অভিযানে কুর্দিদেরও লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে।
এদিকে তুরস্ক সমর্থিত ১৫০০ সিরীয় বিদ্রোহী জারাব্লাস অভিযান সফল করতে এরইমধ্যে ওই শহরে চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, তুর্কি ও আন্তর্জাতিক বাহিনীর আইএস হটানোর সুবিধা নিয়ে যেন কুর্দিরা এই শহর দখল করতে না পারে তা নিশ্চিত করতেই তারই প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, সোমবার সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে কুর্দিদের পিপল’স প্রটেকশন ইউনিট (ওয়াইপিজি) ও ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর বিরুদ্ধে পৃথক সামরিক অভিযান শুরু করেছে তুরস্ক। তুর্কি সেনাবাহিনী সীমান্ত শহর জারাব্লুজে গোলাবর্ষণ করে। একই সঙ্গে মানবিজের কাছে কুর্দি ওয়াইপিজির অবস্থান লক্ষ্য করেও হামলা চালায় তুরস্ক। এক তুর্কি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ওয়াইপিজেকে লক্ষ্য করে ২০টি হামলা চালানো হয়েছে। আর সীমান্ত অতিক্রম করে আইএসের অবস্থানের ওপর হামলা অব্যাহত আছে।
তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্ত থেকে আইএসকে হটিয়ে দিতে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরই এ হামলা শুরু হলো। যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দি ওয়াইপিজি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছিল। তুরস্ক ওয়াইপিজিকে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির একটি শাখা বলে মনে করে। ১৯৮০র দশক থেকে কুর্দিদের স্বাধীনতার জন্য তুরস্ক সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ করে আসছে পিকেকে।
/বিএ/