‘পাঁচ মিনিটে’ ট্রাম্পকে সুস্বাস্থ্যের স্বীকৃতি দিয়ে বিপাকে চিকিৎসক!

ডোনাল্ড ট্রাম্পএবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রধান দুই দল ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীদের প্রচারণায় তাদের স্বাস্থ্যগত ইস্যুটি খুব গুরুত্ব পাচ্ছে। অন্যান্য যোগ্যতার পাশাপাশি শারীরিকভাবে কে কতটা যোগ্য তা নিয়েও প্রতিযোগিতা চলছে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন শারীরিকভাবে প্রেসিডেন্ট হওয়ার অযোগ্য বলে বেশ কয়েকবার মন্তব্য করেছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে মেডিক্যাল সার্টিফিকেটটিও ডিসেম্বরেই প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাম্পের ওই মেডিক্যাল রিপোর্টে এ পর্যন্ত নির্বাচিত প্রেসিডেন্টদের তুলনায় তাকে সবচেয়ে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী বলে উল্লেখ করা হয়। আর তাতেই বেঁধেছে বিপত্তি। হিলারির শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর ট্রাম্পের শারীরিক সক্ষমতার প্রশ্নটিও নতুন করে সামনে চলে আসে। আর বিতর্কের মুখে ট্রাম্পকে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট প্রদানকারী চিকিৎসক জানালেন, তিনি মাত্র পাঁচ মিনিটে রিপোর্টটি দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পকে মেডিক্যাল রিপোর্টটি দিয়েছিলেন চিকিৎসক হ্যারল্ড বর্নস্টেইন। ওই রিপোর্ট থেকে গত ডিসেম্বরে মাত্র চারটি অনুচ্ছেদ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ট্রাম্পের কোনও শারীরিক জটিলতা নেই। তিনি ১২ মাসে ১৫ পাউন্ড ওজন কমিয়েছেন। তার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে শেষ অনুচ্ছেদটি সবার মনে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। কেননা শেষ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ৭০ বছর বয়সী ট্রাম্প নির্বাচিত হলে আগের নির্বাচিত প্রেসিডেন্টদের তুলনায় সবচেয়ে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী প্রেসিডেন্ট হবেন। আর এ মন্তব্যকে অত্যুক্তি বলে উল্লেখ করেন সমালোচকরা।

ট্রাম্পকে যে স্বীকৃতিপত্রটি দেওয়া হয়েছিল
কেন ট্রাম্পকে এমন অতিরঞ্জিত স্বীকৃতি দেওয়া হলো তা নিয়ে হ্যারল্ড বর্নস্টেইনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ট্রাম্পকে সুস্বাস্থ্যের স্বীকৃতিপত্র দিতে মাত্র পাঁচ মিনিট সময় নিয়েছিলেন মাত্র। হ্যারল্ড আরও দাবি করেন, স্বীকৃতিপত্র দেওয়ার দিন ট্রাম্পের পাঠানো গাড়িটি তার চেম্বারের সামনে দাঁড়িয়েছিল। তিনি তাড়াহুড়া করে লিখতে গিয়ে তা প্রুফরিডও করতে পারেনিনি।

এক সপ্তাহ আগে ট্রাম্পের করা একটি টুইটের কারণে প্রভাবিত হয়েছিলেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন হ্যারল্ড বর্নস্টেইন। তিনি বলেন, ‘প্রার্থীর নিজের ভাষাই আমি বেছে নিয়েছিলাম।’

উল্লেখ্য, মেডিক্যাল সার্টিফিকেটটি লেখার দুই সপ্তাহ আগে গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প একটি টুইট করেছিলেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমার দীর্ঘদিনের চিকিৎসককে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল প্রতিবেদন তৈরির জন্য বলা হয়েছে। এতে ‘যথার্থতা আসবে।’

ট্রাম্পের চিকিৎসক হ্যারল্ড
হ্যারল্ড বলেন, ‘আমি বোধহয় তার কথাটিই নিয়ে নিয়েছিলাম এবং আমার মতো করে বর্ণনা করেছি।’

উল্লেখ্য, আসছে নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ওই নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই প্রার্থীর মধ্যে শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে বাকবিতণ্ডা হলেও কোনও প্রার্থীই তাদের পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল প্রতিবেদন প্রকাশ করেননি। ট্রাম্পের মতো হিলারি ক্লিনটনও তার আংশিক মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন। সেখানে চিকিৎসক লিসা বার্ডাক বলেছেন, হিলারির স্বাস্থ্যে অবস্থা চমৎকার এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করার উপযোগী। সূত্র: এনবিসি, বিবিসি

/এফইউ/