চীনের হুঁশিয়ারির সঙ্গে সঙ্গেই হংকংয়ে সুর নরমের আলামত

কাউন্সিলের সবচেয়ে কম বয়সী প্রতিনিধি তিনিচীনের হুঁশিয়ারির সঙ্গে সঙ্গেই নরম হয়ে যাচ্ছে হংকং-এর আইন পরিষদে বিজয়ী তরুণদের সুর।  ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে জয়ী হওয়া ২০১৪ সালে স্বাধীনতাপন্থি আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাথান ল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, স্বাধীনতার পক্ষে তিনি কোনও উসকানি তৈরী করবেন না। এই নাথান ল-ই ২০১৪ সালে সংঘটিত চিনবিরোধী আমব্রেলা আন্দোলনে সামনের কাতারের নেত্বৃত্বে ছিলেন তিনি।

আইন পরিষদের ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে সোমবার দেখা যায়,স্বানীনতার পক্ষের তারণ্য নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। ডেমোসিস্টো পার্টির ল’ আইন পরিষদের আসন নিশ্চিত করেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন ২০১৪ সালে স্বাধীনতাপন্থি আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাথান ল।

এর প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে চীনের হংকং ও ম্যাকাও দপ্তর বলেছে, হংকংয়ের স্বাধীনতা নিয়ে কেউ ওকালতি করলে তাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে। আর এ জন্য হংকং প্রধান সিওয়াই লিউংকে সব ধরনের সমর্থন দেবে চীন।

চীনের এই অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় নাথান ল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেন, তিনি জাতিগত আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার চান। স্বাধীনতা নয়। ‘আইন পরিষদের আসনকে কোনওভাবেই আমি স্বাধীনতার দাবির উসকানি তৈরীতে ব্যবহার করব না। জাতিগত আত্মনিয়ন্ত্রণে আমাদের লড়াই চালিয়ে যাব।’

বিজয়ীদের অনেকেই ২০১৪ সনালের আমব্রেলা আন্দোলনে ছিলেন

আমব্রেলা নামের আন্দোলনে হংকং-এর সংবিধান পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছিল, যেন চীনের বলয় থেকে বের হয়ে আসা যায়। আন্দোলনের সময় বিশ্বের অন্যতম বাণিজ্যিক রাজধানী হংকং কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। চীন আন্দোলনকারীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং ওই আন্দোলনের স্বীকৃতি দেয়নি। হংকংয়ের রাজনীতি, অর্থনীতিসহ যাবতীয় বিষয়ে চীন ‘মাত্রাতিরিক্ত নাক গলাচ্ছে’ বলে অভিযোগ তুলেছিল আন্দোলনকারীরা। তারা তখন বলেছিলেন, চীনের ওই একগুঁয়েমির কারণে ‘এক দেশ দুই নীতি’ পদ্ধতি হুমকির মধ্যে পড়ছে। তবে বেইজিং বারংবার তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, দুই ধরনেরর শাসনব্যবস্থা অটুট রাখার। তবে তাতে সন্তুষ্ট ছিলেন না আমব্রেলা আন্দোলনের নেতারা। চীনবিরোধিতার প্রশ্ন সামনে এনেই তারা আইন পরিষদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পেরেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

রবিবারের আইন পরিষদ নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক ভোট পড়েছে। ভোট পড়েছে ৫৮ শতাংশ। ভোটার অংশগ্রহণের পরিমাণ ২০০৮ সালের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ শেষেও কোন কোন কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।আরেক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে ডেমোসিস্টো পার্টির ল’ আইন পরিষদের আসন নিশ্চিত করেছেন।

২০১০ সালে পাস হওয়া সংবিধান অনুযায়ী ৭০ আসনের হংকংয়ের আইন পরিষদের ৩৫ আসনে ভোটারদের সরাসরি ভোটে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বশীল পদ্ধতিতে ভোট হয়। এতে ৩০ আসনে জয়ী হয় গণতন্ত্রপন্থী নেতারা। যা আগের অবস্থান থেকে বেশি। এর অর্থ এখন চীনা অধ্যুষিত এ বাণিজ্যিক অঞ্চলের আইন ও বাজেট প্রণয়ন বা সাংবিধানিকভাবে বড় ধরনের পরিবর্তনে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রাখবে হংকং।

/বিএ/