সিরিয়ায় আবারও ত্রাণবহর পাঠাবে জাতিসংঘ

জাতিসংঘ জানিয়েছে, ত্রাণবহরে বিমান হামলার পরও তারা সিরিয়ায় ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।

বিধ্বস্ত আলেপ্পো নগরী

সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আলেপ্পোতে যাওয়ার পথে ত্রাণবহরে বিমান হামলার পর সিরিয়ায় ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম বন্ধ করেছিল জাতিসংঘ।

সিরিয়ায় জাতিসংঘের প্রতিনিধি স্তেফান ডি মিস্তুরা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-কে জানিয়েছেন, সিরিয়ায় জাতিসংঘের ত্রাণ কার্যক্রম আবারও শুরু হবে। ত্রাণবহর ‘সাবধানতা ও সতর্কতার সঙ্গে’ উপদ্রুত এলাকায় যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

মিস্তুরা বলেন, ‘সিরিয়ার সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রুশ ও মার্কিন কর্তৃপক্ষকে সিরিয়ায় তাদের মিত্রদের অস্ত্রবিরতি নিশ্চিত করতে রাজি করাতে হবে। আমি এখনও আশাবাদী।’

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্রবিরতির জন্য সিরিয়ায় সকল যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ইন্টারন্যাশনাল সিরিয়ান কন্টাক্ট গ্রুপ সিরিয়া বিষয়ক বৈঠকে বসবে।

এর আগে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেন, দুটি রুশ বিমান থেকে ত্রাণবহরে হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনাকে ‘ব্যাপক মানবিক বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছে হোয়াইট হাউজ।

সিরিয়ার আলেপ্পো নগরীর কাছে ত্রাণবহরে চালানো ওই হামলায় ৩১ ট্রাক ত্রাণবাহী গাড়িবহরটির ১৮টি ট্রাক পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায়। হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হন।

তবে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়, হামলাটি বিমান থেকে চালানো হয়নি, বরং মাটি থেকেই এ হামলা চালানো হয়। বিমান হামলার ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে ওই হামলার ধরনের মিল নেই বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়।

অস্ত্রবিরতি চলাকালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় ৬২ সিরীয় সেনা নিহতের পরই অস্ত্রবিরতি চুক্তির ভবিষ্যত অনিশ্চয়তায় পড়েছিল। এ ঘটনার পর রুশ-মার্কিন সম্পর্কে উত্তেজনা শুরু হয়।

উল্লেখ্য, সিরিয়ায় ২০১১ সালের মার্চ থেকে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে প্রায় চার লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘরহারা হয়েছেন এক কোটি ১০ লাখেরও বেশি মানুষ।

সূত্র: বিবিসি।

/এসএ/