সত্যিকার অর্থে শান্তি প্রতিষ্ঠা চান এমন এক নেতা ইসরায়েল পাবে এমন আশা রেখে আব্বাস বলেন, ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা আমাদের হাত বাড়িয়ে রেখেছি। তবে প্রশ্ন হলো সত্যিকার অর্থে শান্তি চান এমন নেতা ইসরায়েলে আসবেন কিনা; যিনি কর্তৃত্ব ও সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব ছেড়ে আমাদের জনগণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেবেন এবং ঐতিহাসিক এ অবিচারের সমাপ্তি টানবেন।’
শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের অস্থায়ী সমাধান মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন আব্বাস। তিনি বলেন, ‘১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তি অনুযায়ী পাঁচ বছরের মধ্যে দখলদারিত্বের অবসান এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বাধীনতা অর্জনের কথা ছিল। কিন্তু ইসরায়েল চুক্তির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে এবং তাদের দখলদারিত্ব ও অবৈধ বসতি স্থাপন বিস্তৃত করে যাচ্ছে।’
আব্বাস বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে ইহুদিদের কোনও সংঘাত নেই। আমাদের সংঘাত ইসরায়েলি দখলদারিত্বের সঙ্গে। আমরা ইহুদি ধর্মকে সম্মান করি এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপে ইহুদিদের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে তার নিন্দা জানাই আমরা এবং একে মানবতার বিরুদ্ধে ঘৃন্য অপরাধ বলে মনে করি।’
এর আগে একই অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু মাহমুদ আব্বাসকে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে এসে কথা বলার আহ্বান জানান। ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের কাছে সমাধান না চেয়ে দু’দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। জাতিসংঘের অধিবেশনে রাখা বক্তব্যে আব্বাসের উদ্দেশে নেতানিয়াহু বলেন, ‘জেরুজালেমে এসে নেসেটে দাঁড়িয়ে ইসরায়েলের মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। একইভাবে আমিও রামাল্লায় গিয়ে ফিলিস্তিনি পার্লামেন্টে কথা বলতে আগ্রহী। জেরুজালেম আর রামাল্লার পথ ধরে আসবে শান্তি। নিউ ইয়র্কে নয়।’
একইসঙ্গে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট নিরসনে জাতিসংঘের কাছ থেকে আসা কোনও একপাক্ষিক সমাধান-পরিকল্পনায় ইসরায়েল কোনও সায় দেবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের ওপর কোনও নীতিমালা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।’
/এফইউ/