এই যাদুঘর বস্তুত ওবামারই উদ্যোগ। প্রথম ধাপে ক্ষমতায় আসার পর ২০০৩ সালে আফ্রিকান-আামেরিকান স্মৃতি ও সংস্খৃতি সংরক্ষণে জাতীয় যাদুঘর নির্মাণের এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ওবামা আফ্রিকান-আমেরিকান জনগোষ্ঠীকে ওই যাদুঘরে এসে মার্কিন ইতিহাসে কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতিনিধিত্বশীল ভূমিকা দেখার আহ্বান জানান। কৃষ্ণাঙ্গদের উদ্দেশে ওবামা বলেন, ‘আসল কথা হলো, আজকের দিনটি যুক্তরাষ্ট্রকে সবসময়ের এক যথাযথ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করা নয়। বরং আজকের দিনটি আমাদের পরিবর্তন-বিপ্লব আর আমাদের পূর্বপ্রজন্মের এমন এক ইতিহাসকে সামনে আনবে যা থেকে আমরা আরও ভালো একটি রাষ্ট্র হওয়ার দিকে ধাবিত হতে পারি।’
ওবামা বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের বোঝা নই। আমরাই আমেরিকা। এই যাদুঘরও তাই বলে।’
উল্লেখ্য, বারাক ওবামা হোয়াইট হাউস নির্মাণে নিজ সম্প্রদায় তথা আফ্রিকান-আমেরিকান দাসদের ভূমিকার কথা সামনে এনেছিলেন। ‘ব্লাডি সানডে’র (১৯৭২ সালে ভোটাধিকারের দাবিতে আফ্রিকান-আমেরিকানদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলি চালিয়ে শত শত কৃষ্ণাঙ্গকে হত্যা করে মার্কিন সেনাবাহিনী। দিনটিকে ব্ল্যাডি সান ডে নামে ডাকা হয়।) এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরাই সেই দাস, যারা হোয়াইট হাউস নির্মাণ করেছি’। এছাড়া কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার প্রেক্ষাপটে বারবার তিনি মার্কিন সমাজে জারি থাকা বর্ণবাদের কথা স্বীকার করেন।
শনিবার কৃষ্ণাঙ্গ স্মৃতি যাদুঘর উদ্বোধনের পর তাই নাগরিক অধিকার আন্দোলনের স্বনামধন্য কর্মী জন লিউস বললেন, ‘একটি স্বপ্ন এবার বাস্তব হলো’।
সূত্র: বিবিসি, সিএনএন, রয়টার্স, গার্ডিয়ান
/বিএ/