উল্লেখ্য, প্রবাসে থাকা মার্কিন ভোটারদের নাগরিক অধিকার অক্ষুণ্ন রাখতে তাদের ভোট দেওয়ার বিধান রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রবাসের ভোটাররা ওভারসিজ ভোটার নামে পরিচিত। রেজিস্ট্রেশনের মধ্য দিয়ে তারা ভোটাধিকার অর্জন করে থাকেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত দিনের এক থেকে দেড় মাস আগে ডাকযোগে অথবা অনলাইনে এই ব্যালট প্রবাসী ভোটারের কাছে পাঠানো হয়। যে প্রবাসী যে অঙ্গরাজ্যের অধীনে ভোটার, সেই অঙ্গরাজ্যের ভোটাধিকার প্রয়োগের নির্ধারিত শেষ দিনের আগে এই ব্যালটে ভোট দিয়ে তা ফেরত পাঠাতে হয়। দূতাবাসে, ফ্যাক্স-ইমেইল অথবা ইন্টারনেটের অন্য মাধ্যম ব্যবহার করে অথবা এক্সপ্রেস কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এই ভোট প্রয়োগ করা ব্যালট ফেরত পাঠানো যায়। এই ব্যবস্থার অধীনেই নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন সিঙ্গাপুর প্রবাসীরা।
সিঙ্গাপুরের সেই প্রবাসীদের মার্কিন ভোটারদের মধ্যে আমেরিকান স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে চাইছেন। সেখানকার অন্যান্য প্রবাসীরা ভোট দেওয়ার কথা ভাবলেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন অথবা তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প এর পরিবর্তে তৃতীয় দলের প্রার্থীদের দিবেন বলে ঠিক করেছেন। উডল্যান্ডের কিছু বাসিন্দা ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান উভয় পক্ষের প্রার্থীদের এই প্রতিযোগিতাকে সার্কাস-এর সঙ্গে তুলনা করছেন।
গৃহবধু মনিকা মরিয ২০১২ থেকে সিঙ্গাপুরে থাকেন। বিধি মেনে গত সপ্তাহে নিজের ভোট মেইল করেছেন তিনি। মনিকা করেন, ‘এটি একটি সার্কাস। ট্রাম্প একজন অভিনেতার মতো যিনি মঞ্চে অভিনয় করছেন। আর হিলারি এমন ভান করছেন যেন তিনি ট্রাম্পের দেখানো ভয়ের ভুক্তভোগী। তবে তার সেটা হওয়া উচিত নয়। আমি জানি না এখানে ডেমোক্র্যাট আর রিপাবলিকান এই দুই পক্ষ কী অর্জন করতে চাইছে। আমরা চিন্তিত কারণ দুই প্রার্থীর কাউকেই আমরা পছন্দ করি না। আমরা মনে করি, এটা দুই খারাপ থেকে একটি বাছাই করা।
৪৭ বছর বয়স্ক নারী মনিকা আরও বলেন, উভয় প্রার্থীর কেউই সত্যিকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ তুলছেন না। অর্থনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মতো বিষয়গুলে আড়ালেই থাকছে। তা সত্ত্বেও মনিকা হিলারিকে সমর্থন করার সিধান্ত নিয়েছেন কারণ তার মতে ক্লিনটনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে।
আসন্ন মার্কিন নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন সিঙ্গাপুরে থাকা বেশিরভাগ আমেরিকান নাগরিক। নিয়মিত সকালের কফি ও ব্যায়াম গ্রুপের দেখাগুলোতে নির্বাচন এবং তার প্রার্থীরা দৈনন্দিন কথোপকথনের প্রধান বিষয়বস্তু। তবে এবারের নির্বাচনি উদ্যোগ তাদের কেবল হতাশই করেছে। গৃহিনী লরা এখানে আছেন ছয় বছর ধরে। রিপাবলিকান এবং ডেমোক্রেটিক মনোনীত প্রার্থীরা মাঝারি মানের। ‘প্রত্যেকেই আমাদের বাজে পছন্দগুলো নিয়ে হতাশ।’ ৪৫ বছর বয়স্কা আরও বলেন, এই রাজ্যের তার কিছু বন্ধু নির্বাচনে অংশ নিবেন না।
সিঙ্গাপুরের অন্যান্য আমেরিকানরা ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান প্রার্থীকে বিচার করছেন দুই খারাপের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে। গৃহিনী ওয়েন্ডি মনে করেন, এটি একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়। ‘আমরা চিন্তিত কারণ আমরা কোন প্রার্থীকেই পছন্দ করি না’, বলেন তিনি। ওয়েল্ডি আরও বলেন, ‘আমার দিক থেকে এটা দুই খারাপ মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়ার সুযোগ’। দুই মাস আগে সিঙ্গাপুরে আসা এই ৫ সন্তানের মা বলেন, প্রতিবেশীদের মধ্যে নৈমিত্তিক কথোপকথন সময় নির্বাচনের কথা উঠে। ‘আমরা সারা দিন এ সম্পর্কে কথা বলতে পারি, কিন্তু আমরা কি করতে পারি?’ হতাশ ওয়েল্ডি শেষ পর্যন্ত গিয়ে সৃষ্টিকে আশ্রয় করেন। বলেন, ‘যেই নির্বাচিত হোক, আমরা আশা করি যে ঈশ্বর হস্তক্ষেপ করবেন এবং তাদের সাহায্য করবেন।’
সিঙ্গাপুর প্রবাসীদের মধ্যে ট্রাম্পের কিছু সমর্থকও রয়েছেন। এমন একজন ৪৪ বছর বয়স্ক সমর্থক দুই সন্তানের মা নিজের পরিচয় দিয়েছেন শুধু কেলি নামে। সানডে টাইমসকে কেলি জানিয়েছেন, ট্রাম্প কে সমর্থন করছেন। যদিও তিনি নারীর প্রতি ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মর্মাহত, তবুও তিনি মনে করেন, ব্যবসায়ী ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে পারবেন। কেলি বলেন, ‘তিনিই পরিবর্তন। আমি বাজি ধরতে পারি তিনি অন্য ধরনের চিন্তা টেবিল এ নিয়ে আসবেন আলোচনার জন্য। এজন্য তাকে বেশ কিছু খাঁচা নাড়া দিতে হবে, কিন্তু আমার মতে এটা প্রয়োজনীয়। অন্যান্য বাসিন্দাদের মতে তারা তৃতীয় ধারার প্রার্থী যেমন লিবারটেরিয়ান গেরি জন্সন এবং প্রাক্তন সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স-এর ইভান মাক্মুলিনকে সমর্থন দিচ্ছেন।
৬ সন্তানের জননী ৩৯ বছর বয়স্ক সারা আর তার স্বামী ডারেন লিফারথ দুজনেই এক মাস ধরে সিদ্ধান্ত নিয়ে তৃতীয় ধারায় ভো পর মাক্মুলিন কে ভোট করেছেন। তারা তাদের ব্যালট গত সপ্তাহে পাঠান। মিসেস লিফারথ, যিনি সিঙ্গাপুর এ ৪ বছর ধরে বসবাস করেন বলেন, ‘আমি নিজেকে ক্লিনটন বা ট্রাম্প কে ভোট দেওয়া থেকে বিরত রেখেছি। আমার মনে হয় না, তাদের কারও মনেই আমেরিকার জন্য ভাল কিছু করার চিন্তা আছে।’ তিনি জানান, ‘আমরা মাসের পর মাস এ ব্যাপারে কথা বলেছি। চিন্তা করেছি কাকে ভোট দিয়ে রাতে ঘুমাতে যাব।’ প্রতিবেশিদের মধ্যে আমেরিকার সমস্যা নিয়ে কথার চেয়ে প্রার্থীদের নিয়েই কথা বেশি হয়।
মিসেস লিফারথ বলেন, ‘এটা দুঃখজনক কারণ দুইজন প্রার্থীর উভয়ই ভয়ঙ্কর।’
/বিএ/