কেমন হবেন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী ভাইস প্রেসিডেন্ট

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মাইক পেন্সমঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয় নিশ্চিত হওয়ায় দেশটির নিয়ম অনুযায়ী তার রানিং মেট মাইক পেন্স সরাসরি ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে গেলেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর ৪৮তম ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তিনি। অনভিজ্ঞ প্রেসিডেন্টের সঙ্গী হিসেবে তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার দিনগত রাত ৩টার দিকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ট্রাম্পের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরই নিউ ইয়র্কে উল্লসিত সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক রাত। মার্কিন জনগণ কথা বলেছে। আমেরিকান জনগণ তাদের নতুন চ্যাম্পিয়নকে নির্বাচিত করেছে।’  
গত বছর ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে ‘আগ্রাসী ও সংবিধানবিরোধী’ বলে টুইট করেছিলেন মাইক পেন্স। এ ছাড়াও এই দুই সহযোগী রাজনীতিবিদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ বা অবস্থানগত ভিন্নতা থাকার কথাও প্রকাশ পেয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ‘আগ্রাসী ও সংবিধানবিরোধী’ ট্রাম্পেরই সঙ্গী হন পেন্স। কেবল তাই নয়, তিনি এমন এক প্রেসিডেন্টের সহযোগী হিসেবে কাজ করবেন, যার সরকার পরিচালনা বা এ সংক্রান্ত কাজের অভিজ্ঞতা নেই। আর সেকারণে পেন্সের দায়িত্বটা একটু বেশি হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

মাইক পেন্স ইন্ডিয়ানা গভর্নরের দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও ১২ বছর ধরে ইউএস হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের সদস্য হিসেবে আছেন।এ ছাড়াও কঠোর রক্ষণশীলদের কোয়ালিশন রিপাবলিকান স্টাডি গ্রুপের প্রধান হিসেবেও কাজ করেছেন মাইক পেন্স।

তবে পেন্সের ক্যারিয়ারের সবটুকু‌ও নিখুঁত নয়। গভর্নর হিসেবে তার রাজ্যের ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’ আইনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন এলজিবিটি অধিকার কর্মী ও ব্যবসায়ীরা। ইন্ডিয়ানার ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক বিলকে সমকামীবিরোধী হিসেবেও দেখা হয়ে থাকে। এছাড়াও গর্ভপাতবিরোধী অবস্থানও রয়েছে গভর্নর পেন্সের। আবার পেন্স যখন ইন্ডিয়ানার দরিদ্রদের জন্য সরকারি স্বাস্থ্য সেবার পরিধি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন, তার সেই সিদ্ধান্তকেও প্রথাবিরোধী হিসেবে সমালোচনা করেন অনেকে। সূত্র: ইউএসএ টুডে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

/এফইউ/