ট্রাম্পকে ফোন করেছিলেন হিলারি?

 

nonameপ্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয় ভাষণে (ভিক্টরি স্পিচ) দাবি করেছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন তাকে টেলিফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিয়েছেন।

বক্তৃতার শুরুতে বিনয়ী কণ্ঠে সবাইকে ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, সবে তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের কাছ থেকে ফোন পেয়েছেন। তিনি নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিয়েছেন। জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনিও হিলারিকে ধন্যবাদ দিয়েছেন।

বিভক্তির ক্ষত সারিয়ে ঐক্যবদ্ধ আমেরিকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সব আমেরিকান নাগরিকের প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

বিজয় ভাষণ (ভিক্টরি স্পিচ) দিতে গিয়ে মুহুর্মুহু করতালি আর উল্লাস-উচ্ছ্বাসের মধ্যে হাত নাড়তে নাড়তে মঞ্চে আসেন ট্রাম্প। ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সব মানুষের প্রেসিডেন্ট হবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সব আমেরিকানের প্রেসিডেন্ট হব। এটা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ।’ বিভক্তির ক্ষত সারাতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি আমেরিকাকে ঐক্যবদ্ধ করবেন। বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত আরও স্মরণীয় হয়ে উঠবে যদি সবাই মিলে একসঙ্গে দেশের জন্য কাজ করতে পারে।  তবেই দেশ মহান হবে।’মার্কিন জনগণের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনাদের কাছে অঙ্গীকার করছি, আমি আপনাদের নিচে নামতে দেব না। আমরা অসাধারণ কাজ করব।’

বিজয় নিশ্চিতের পর এ যেন এক অন্য ট্রাম্প। প্রার্থিতা পাওয়ার পর থেকে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় পর্যন্ত তিনি রচনা করেছেন বিদ্বেষের ব্যাকরণ। অভিবাসী আর মুসলমানদেরকে ঘৃণাবাদী দৃষ্টিতেই দেখেছেন তিনি। সেই ট্রাম্পই বিজয় ভাষণে এসে যেন অন্য মানুষে রূপান্তরিত হলেন।

ট্রাম্প আশ্বাস দেন তার সরকার জনগণের সেবা করবে। তিনি বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে আমাদের দেশের পুনর্গঠনের কাজ শুরু করব। আমি আমাদের দেশকে ভালোভাবে জেনেছি। এখানে প্রচুর সম্ভাবনা আছে। প্রত্যেক আমেরিকানের সক্ষমতা রয়েছে তার সম্ভাবনাকে বোঝার।’

ট্রাম্প ‘জাতীয় নবায়ন প্রকল্প’ ঘোষণা করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দেন। অন্য দেশগুলোর সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করারও অঙ্গীকার করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বিশ্ব সম্প্রদায়কে বলতে চাই, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে প্রাধান্য দিলেও সবার সঙ্গে ভালোভাবে থাকব।’

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ২৭৯টি ইলেক্টোরাল ভোট পেয়ে এরইমধ্যে জয় নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে প্রার্থীদের কমপক্ষে ২৭০টি ইলেক্টোরাল ভোট পেতে হয়। সর্বশেষ উইসকনসিনে জয়ের আগে প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী  গুরুত্বপূর্ণ দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডা, ওহাইয়ো এবং নর্থ ক্যারোলিনাতে হেরে যাওয়ার পর হিলারি শিবিরে অস্বস্তি তৈরি হয়। হিলারি প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন ব্যক্ত করা প্রভাবশালী ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়,  বিপাকে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। পরে বলা হয়, জয়ের কাছাকাছি রয়েছেন ট্রাম্প। এরপর পেনসিলভ্যানিয়ায় জয় নিশ্চিত করে ট্রাম্প নিশ্চিত করে ফেলেছেন নিজের বিজয়। আর সবশেষে উইসকনসিনে জয়ের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ ইলেক্টোরাল ভোট নিশ্চিত করতে সক্ষম হন তিনি।

/বিএ/