উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়ন দৌঁড়ে হিলারির কাছে হেরে গিয়েছিলেন সিনেটর স্যান্ডার্স। তবে আসলে তিনি হারেননি। তাকে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। জুলাইয়ে উইকিলিকস কর্তৃক ফাঁসকৃত ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কনভেনশনের নথিতে দেখা গেছে, স্যান্ডার্স যেন প্রার্থিতা না পান সে ব্যাপারে আগে থেকেই সব ধরনের আয়োজন সম্পন্ন করে রেখেছিল ডেমোক্র্যাট ন্যাশনাল কমিটি। কীভাবে স্যান্ডার্সকে রুখে দিয়ে আরেক ডেমোক্র্যাট প্রার্থিতা প্রত্যাশী হিলারি ক্লিনটনের মনোনয়ন নিশ্চিত করা যায় সে ব্যাপারে উঠে পড়ে লাগে তারা। স্যান্ডার্সকে পরাজিত করার ছক কষতে ডেমোক্র্যাট ন্যাশনাল কমিটির নেতারা নিজেদের মধ্যে ইমেইল চালাচালি করতে থাকেন। ফাঁস হওয়া ইমেইলগুলোতে ন্যাশনাল কমিটি এবং বার্নি স্যান্ডার্সের মধ্যকার বিভাজন পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে।
জরিপ-এর বরাত দিয়ে হাফিংটন পোস্ট বলছে, স্যান্ডার্স প্রার্থী হলে ৫৬ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হতেন, বিপরীতে ট্রাম্প পেতেন ৪৪ শতাংশ ভোট। ভোটের ফলাফলের তুলনা করে গ্রাভিস মার্কেটিং দেখিয়েছে, দল নিরপেক্ষ ভোটারদের ৪২ শতাংশের সমর্থন পেয়েছেন হিলারি। অন্যদিকে ৪৮ শতাংশের সমর্থন নিয়ে জয় ঘরে তুলেছেন ধনকুবের ট্রাম্প। কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ অর্থনীতিকে সুসংহত করার উপর জোর দেওয়া খানিকটা অ্যান্টিস্টাবলিশমেন্ট স্যান্ডার্স ভোটে ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারির হারের পর দলের সমালোচনাও করেন।
হিলারির সঙ্গে মনোনয়ন লড়াইয়ে নামা ডেমোক্র্যাট সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ট্রাম্পের বিজয়ের পর বলেছেন, ‘জনগণ অধিক সময় ধরে শ্রম দিয়ে খুবই অল্প মজুরি পান। সেই সঙ্গে স্বল্প মজুরির জন্য বিনিয়োগ যাচ্ছে চীনের মতো দেশগুলোতে। আর এতে জাতীয় অর্থনীতি ব্যহত হচ্ছে। ধনীরা আরও ধনী হচ্ছেন। আর সাধারণ মানুষ সন্তানদের কলেজেও পড়াতে পারছেন না।’ আর এসব কারণেই বিক্ষুব্ধ মার্কিনিরা পরিবর্তনের আশায় ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়েছেন বলে স্যান্ডার্স মনে করেন।
পরের বার প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নাকচ করছেন না ৭৫ বছর বয়সী স্যান্ডার্স।‘চার বছর অনেক সময়। আমি কিছুই উড়িয়ে দিচ্ছি না,’ সাংবাদিকদের বলেছেন তিনি। তবে স্যান্ডার্সে মনোযোগ এখন কেন্দ্রীভূত ২০১৮ সালে সিনেট নির্বাচনে তার ভারমন্টের আসনটি ধরে রাখার দিকে। পরের কথা আরও পরে ভাববেন তিনি।
জুলাইয়ে এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মার্কিন গোপন নথি ফাঁস করে আলোচনায় থাকা উইকিলিকসের ওয়েবসাইটে বেশ কয়েকটি ইমেইলের বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির কর্মকর্তারা স্যান্ডার্স ও তার সমর্থকদের নিয়ে বিদ্রুপ করছেন, ইহুদি ধর্মের প্রতি স্যান্ডার্সের অঙ্গীকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। অথচ এ কমিটিকে নিরপেক্ষ বলে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। ইমেইলগুলোর একটিতে দেখা যায়, ডেমোক্র্যাট কমিটির কর্মীরা একে অপরের কাছে জানতে চাইছিলেন কিভাবে দক্ষিণাঞ্চলীয় ভোটারদের চোখে বার্নি স্যান্ডার্সকে দুর্বল করে দিতে তার ধর্মবিশ্বাসকে ব্যবহার করা যায়। আরেকটি ইমেইলে দেখা গেছে, এক অ্যাটর্নি কমিটিকে পরামর্শ দিচ্ছেন কী করে স্যান্ডার্সের ক্যাম্পেইনে ওঠা অভিযোগ থেকে হিলারিকে রক্ষা করা যায়।
/বিএ/