উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সরকার গঠন ও অন্যান্য পদে নিয়োগ দেওয়াসহ পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করার জন্য ১৬ সদস্যের একটি নির্বাহী কমিটি (ট্রানজিশন কমিটি) গঠন করেন ট্রাম্প। এখন ওই উপদেষ্টা কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাইক পেন্স। নিউ জার্সির গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টির স্থলাভিষিক্ত হন পেন্স। আর মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) সাবেক কংগ্রেসম্যান ও হাউজ ইনটেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান মাইক রজার্স ঘোষনা দেন, তিনি ট্রাম্পের ট্রানজিশন কমিটির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন। এরপরই সমালোচনা শুরু হয় যে, ট্রানজিশন কমিটির ওই দুই নেতাকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। ট্রানজিশন কমিটির অভ্যন্তরে অস্থিরতা চলছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এমন প্রেক্ষাপটে একটি টুইট করেন ট্রাম্প।
টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘সুসংগঠিত প্রক্রিয়ায় সবকিছু এগোচ্ছে, এর ভিত্তিতেই আমি পরবর্তী মন্ত্রিসভা ও অন্যান্য পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেব। তবে শেষ পর্যন্ত কারা থাকছে তা কেবল আমিই জানি!’ নির্বাচন পরবর্তী সপ্তাহটা ম্যানহাটনের ট্রাম্প টাওয়ারেই কাটিয়েছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। প্রতিদিন কিছু টুইটের মাধ্যমেই নিজের প্রকাশ ঘটাচ্ছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইউএসএ টুডে জানিয়েছে, গত সপ্তাহে নিউ জার্সির গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টিকে ট্রাম্পের অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা কমিটির প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর ক্রিস্টি ও তার কয়েকজন সহযোগী এখন আর ওই উপদেষ্টা কমিটিতে কাজ করছেন না। দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ওই কমিটিতেও দেখা যাচ্ছে বলে ইউএসএ টুডে জানিয়েছে।
বিভিন্ন মিডিয়ার খবরে বলা হচ্ছে, ট্রানজিশন কমিটিতে পরিবর্তনের পেছনে ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনারের হাত রয়েছে। কর ফাঁকিসহ কয়েকটি কারণে ২০০৪ সালে কুশনারের বাবার কারাদণ্ড হয়েছিল। সেসময় ক্রিস্টি নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে পুরনো সেই বিদ্বেষ এখানে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আর ক্রিস্টির সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে নাকি মঙ্গলবার রজার্স পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন।
ট্রাম্প টাওয়ারের অভ্যন্তরীণ দুই সূত্রকে উদ্ধৃত করে পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে নাকি বেননকেই চিফ অব স্টাফ করতে চাইছিলেন। তবে কুশনারের হস্তক্ষেপে নাকি মতামত পাল্টেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত জামাতার কথাই শুনেছেন ট্রাম্প। রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি –আরএনসির চেয়ারম্যান রেইন্স প্রিয়েবাসকে চিপ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন তিনি। উল্লেখ্য, চিফ অব স্টাফ পদটি হোয়াইট হাউসের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার পদ। প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সচিবের (পার্সোনাল সেক্রেটারি) মতো কাজ করেন ওই পদে থাকা ব্যক্তি। এই পদে নিয়োগ পাওয়া রেইন্স প্রিয়েবাস হাউস স্পিকার পল রায়ানের ঘনিষ্ঠ এবং রিপাবলিকান দলের বহু পুরনো বিশ্বস্ত সঙ্গী। সূত্র: বিবিসি
/এফইউ/