আলেপ্পোতে দু‌ই পক্ষের বোমা হামলায় 'এক সপ্তাহে দুই শতাধিক নিহত'

ধ্বংসস্তূপের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে মানুষসিরিয়ার আলেপ্পোর বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকার অর্ধেকজুড়ে এক সপ্তাহে ক্রমাগত বোমা হামলায় অন্তত ১৪১ বেসামরিক নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ জন শিশু। আবার আলেপ্পোর সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিদ্রোহীদের বোমা হামলায় ১০ শিশুসহ ১৬ বেসামরিকের প্রাণহানি হয়েছে। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস-এর বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এসব তথ্য জানিয়েছে। এছাড়া পূর্বাঞ্চলীয় সেক্টরে আরও ৮৭ জন বিদ্রোহী যোদ্ধা ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি নিহত হয়েছে বলেও দাবি করেছে অবজারভেটরি। আলেপ্পোতে সব মিলে এক সপ্তাহে প্রাণহানির সংখ্যা ২৪৪।
সিরিয়ান অবজারভেটরি জানিয়েছে, অবরুদ্ধ এলাকাটিতে রাশিয়া ও সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর বিমান হামলার কারণে শত শত মানুষ আহত হয়েছে। এক সপ্তাহের অস্ত্রবিরতি শেষ হওয়ার পর গত মঙ্গলবার থেকে আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চলে নতুন করে হামলা শুরু হয়।  
স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গত সপ্তাহে পূর্ব আলেপ্পোতে বিমান হামলার কারণে শহরটির সব প্রধান  প্রধান হাসপাতাল অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, সিরিয়ায় ২০১১ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে আড়াই লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ। সিরিয়ার চলমান সংকট নিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিপরীত ধর্মী। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণাকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে আসাদ সরকারের দাবি, আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে যুক্তরাষ্ট্র মূলত বিদ্রোহীদের সহযোগিতা করতে সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা চালাচ্ছে। আর রাশিয়া বাশার আল আসাদকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। আসাদ সরকারের সমর্থনে রাশিয়াও আইএস ও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে। সিরিয়া সংকটকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র প্রক্সি যুদ্ধে মেতে ওঠেছে বলে অনেকেই মনে করেন। 

/এফইউ/