মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দফতর নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, অন্তত চারটি অঞ্চলে এসব অত্যাকাণ্ড চালানো হয়। জেনেভায় সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তরের মুখপাত্র রুপার্ট কোলভিল জানান, সিরিয়ার সরকার সমর্থিত বাহিনী পূর্ব আলেপ্পোতে প্রবেশ করেছে এবং শহরের ভেতরে যারা রয়েছে তাদের হত্যা করা হচ্ছে। এদের মধ্যে ১১ জন নারী ও ১৩ শিশুও রয়েছে।
রুপার্ট আরও জানান, ‘জাতিসংঘের কাছে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ রয়েছে পূর্ব আলেপ্পোর চারটি এলাকায় ৮২ জন বেসামরিক নাগরিককে ঘটনাস্থলেই গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এখানকার মানবাধিকার পরিস্থিতি একেবারেই বিপর্যস্ত।’
জাতিসংঘের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘গতকাল বিকালে আমরা আরও মর্মান্তিক খবর জানতে পেরেছি যে, রাস্তায় অসংখ্য মরদেহ পড়ে আছে। তীব্র বোমা হামলা ও গুলির ভয়ে বাসিন্দারা এগুলো সরিয়ে নিতেও পারছে না।’
সিরিয়ার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সামির সুলেইমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘এসবই মিথ্যা অভিযোগ। সিরীয় সেনাবাহিনী এমনটা করতে পারে না। আর আমাদের সেনাবাহিনীর ইতিহাসে আমরা এমনটা কখনও করিনি।’
তিনি আরও দাবি করেন, ‘বড় বিজয়ের পর, এখন সিরীয় সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য এমনটা করা হচ্ছে।’
জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ-এর এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, একটি ভবনে অবস্থানকারী শতাধিক শিশু ভারী আক্রমণের সম্মুখীন হয়েছে।
গত চার বছর ধরে আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চল বিদ্রোহীদের দখলে ছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে শহরের একটি বড় অংশের পতন ঘটে সরকারি বাহিনীর হাতে। বিদ্রোহীরা এখনো পূর্ব আলেপ্পোর কিছু অংশ দখল করে রেখেছে। তবে এর পতন কেবল সময়ের ব্যাপার। বিদ্রোহীদের দখলকৃত এ অংশে আটকা পড়ে আছে কয়েক হাজার বেসামরিক নাগরিক। এসব এলাকায় সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্র রাশিয়া টানা বিমান হামলা চালাচ্ছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক রেডক্রস অস্ত্রবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসলেও তাতে সাড়া দেয় রুশ ও আসাদ বাহিনী।
সূত্র: বিবিসি।
/এসএ/