ট্রাম্পকে ‘হত্যাচেষ্টাকারী’ সেই ব্রিটিশ তরুণের কারাদণ্ড

স্যান্ডফোর্ডগত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা চলার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার অপরাধে গ্রেফতার হওয়া সেই ব্রিটিশ তরুণকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের আদালত তার বিরুদ্ধে এক বছর একদিনের সাজা ঘোষণা করে। গত সেপ্টেম্বরেই তাকে আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত জুনে লাস ভেগাসে ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণাকালে এক পুলিশ সদস্যের পিস্তল ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করেন মাইকেল স্টিভেন স্যান্ডফোর্ড নামের ওই তরুণ। তখন তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের পিস্তল কেড়ে নিয়ে ট্রাম্পকে গুলি করে হত্যা করার পরিকল্পনা তার ছিল বলে দাবি করে পুলিশ। স্যান্ডফোর্ড এক তদন্ত কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন, এক বছর ধরে তিনি ট্রাম্পকে হত্যা করার কথা ভাবছিলেন। এবার তা করার ব্যাপারে নিজের ওপর বেশি আত্মবিশ্বাস ছিল বলেও জানান তিনি। স্যান্ডফোর্ডের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগপত্রে বলা হয়, তিনি সোয়েরকোস্কি নামক এক মার্কিন তদন্ত কর্মকর্তাকে বলেছেন, তিনি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার জন্য লাস ভেগাসে গিয়েছিলেন। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, তিনি বন্দুক চালনা শেখার জন্য ব্যাটলফিল্ড ভেগাস নামক একটি শ্যুটিং রেঞ্জে গিয়েছিলেন এবং জীবনে প্রথমবারের মতো গুলি চালিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ২০ রাউন্ড গুলি চালান। স্যান্ডফোর্ড প্রায় দেড় বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং গত এক বছর ধরে ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করছিলেন বলেও ওই অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
হত্যাচেষ্টার দায়ে স্যান্ডফোর্ডের দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হওয়ার সুযোগ ছিল। তবে মায়ের দাবি ‘স্যান্ডফোর্ড যা করেছে তা নিয়ে অনুশোচনায় ভুগছে।’ আইনজীবীদের দাবি, তাদের মক্কেল অটিজম, খিঁচুনিজনিত সমস্যা এবং অবসাদে ভুগছেন।

তবে আদালতের রায়ে বলা হয়, চার মাস পর স্যান্ডফোর্ড বিশেষ বিবেচনায় ছাড়া পাওয়ার উপযোগী হবেন। তবে সেক্ষেত্রে তাকে যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার কমলা রংয়ের কারা পোশাকে আদালতে হাজির হন স্যান্ডফোর্ড। তাকে বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে হাত নেড়ে তিনি বলেন, ‘আমি তোমাদের ভালোবাসি’। নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্যান্ডফোর্ড। সূত্র: বিবিসি

/এফইউ/