বাস ও অ্যাম্বুলেন্সে করে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হবেসিরিয়ার পূর্ব আলেপ্পোতে নতুন অস্ত্রবিরতি চুক্তির আওতায় স্থানীয় লোকজন ও বিদ্রোহীদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হতেই আহত বেসামরিকদের বহরে হামলা হয়েছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের প্রতি অনুগত মিলিশিয়াদের হামলায় অন্তত একজন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে আলজাজিরা। ওই গোলাগুলিতে আরও বেশ কয়েকজন আহত হওয়ারও খবর পাওয়া গেছে।
অবশ্য, জৌহির আল মিমালে নামে এক স্বতন্ত্রধারার সাংবাদিকের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, হামলার পরও আলেপ্পো থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, বুধবার হওয়া নতুন অস্ত্রবিরতি চুক্তির আওতায় বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে পূর্ব আলেপ্পো থেকে বেসামরিক নাগরিক ও বিদ্রোহী যোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়। দীর্ঘদিনের যুদ্ধপূর্ণ পরিস্থিতিতে অসুস্থ হয়ে পড়াদেরকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা হয়ে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত পশ্চিম আলেপ্পোতে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে আহতদের বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় সরকারপন্থী মিলিশিয়ারা।
বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধারকারী সংগঠন হোয়াইট হেলমেটসের মুখপাত্র ইব্রাহিম আবু আল-লেইথ আল জাজিরাকে জানান, সরকারপন্থী মিলিশিয়াদের গুলিতে একজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে চারজনেরও বেশি। এরমধ্যে একজন মেডিক্যাল কর্মীও রয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘খুব গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন তারা। অন্তত তিনজনকে এখন অপারেশন করতে হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, সিরিয়ার আলেপ্পো নগরীতে মঙ্গলবারের অস্ত্রবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগেই বুধবার তা ভেঙে পড়ে। বুধবার রাতে বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে জানানো হয় নতুন অস্ত্রবিরতি চুক্তি কার্যকর হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে বিদ্রোহীরা আলেপ্পো ত্যাগ করবেন। অস্ত্রবিরতির কথা উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, বিদ্রোহী যোদ্ধাদের বাস ও অ্যাম্বুলেন্সে করে ইদলিব শহরে স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছে। আলেপ্পো থেকে এর দূরত্ব ৬৫ কিলোমিটারের মতো। তবে বুধবারের মতো বৃহস্পতিবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটলো।
এর আগে মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) বিদ্রোহীরা সিরিয়ার সরকারি বাহিনীকে পূর্ব আলেপ্পো ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে যুদ্ধ সমাপ্তির ঘোষণা আসে। রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যস্ততায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগত বাহিনী এবং বিদ্রোহীদের মধ্যে চুক্তি কার্যকরের কথা ছিল বুধবার থেকে। আলেপ্পোর অধিবাসীদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরুর কথা ছিল স্থানীয় সময় ভোর ৫টা থেকে। কিন্তু তা শুরু হয়নি। এর কয়েক ঘণ্টা পরই শুরু হয় প্রচণ্ড গোলাগুলি। বুধবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর)-এর মুখপাত্র রামি আবদুলরহমান বলেন, ‘ভয়ঙ্কর সংঘর্ষ চলছে, প্রচণ্ড মাত্রায় বোমা হামলা চলছে। এতে মনে হচ্ছে যুদ্ধ বিরতির সব কিছুই ভেস্তে গেছে।’ তিনি আরও জানান, বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা চালানো হচ্ছে।
স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হোয়াইট হেলমেটস-এর মুখপাত্র ইব্রাহিম আবু-লেইথ জানিয়েছেন, নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন।
অস্ত্রবিরতি ঘোষণার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল থেকে মানুষদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেকগুলো বাসও পৌঁছেছিল। কিন্তু বুধবার হঠাৎ করেই আবার সংঘর্ষ শুরু হয়। সিরিয়ায় জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি স্তেফান ডি মিস্তুরা জানিয়েছেন, বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আটকা পড়ে আছেন। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, আটকা পড়া মানুষের সংখ্যা এক লাখেরও বেশি।
মিস্তুরা আরও বলেন, এসব অঞ্চলে অন্তত দেড় হাজার বিদ্রোহী রয়েছেন। এদের ৩০ শতাংশই জঙ্গি সংগঠন ফাতেহ আল শাম (প্রাক্তন নুসরা ফ্রন্ট)-এর সঙ্গে জড়িত।
২০১২ সাল থেকে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে পূর্ব আলেপ্পো। সম্প্রতি সরকারি বাহিনী অঞ্চলটির অধিকাংশ জায়গা দখল করে নেওয়ায় বিদ্রোহীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে।
/এফইউ/