আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্ব আলেপ্পো পুনর্দখলের লড়াই যখন চলছে তখন নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়ার সরকারি বাহিনীকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন জাতিসংঘের সিরিয়াবিষয়ক দূত বাশার জাফরি। নিরাপত্তা পরিষদে একটি ছবি দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, এক সিরিয়ান সেনা সদ্য এক সিরিয়ান নারীকে সহায়তা করছেন। ছবিটি হাতে ধরে রেখে তিনি বলেন, ‘আলেপ্পোতে এটাই করছে সিরিয়ার সেনাবাহিনী। এই যে এ ছবিতে দেখুন, সিরীয় সেনারা কিভাবে সহায়তা দিচ্ছে। এক নারীকে কিভাবে গাড়ি থেকে নামিয়ে আনছে।’
অবশ্য, পরে বের হয়ে আসে অন্য তথ্য। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ছবিটি আসলে ইরাকের ফাল্লুজায় তোলা। ছবিতে যে সেনা সদস্যকে দেখা যাচ্ছে তিনি পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিট (পিএমইউ)-এর সেনা। ইরাকি এক নারীকে তিনি গাড়ি থেকে নামতে সহায়তা করছিলেন। ফাল্লুজা যুদ্ধের সময় মূলত ছবিটি তোলা হয়েছিল এবং ২০১৬ সালের জুনের দিকে আরবি ভাষার সংবাদ ওয়েবসাইটগুলোতে ছবিটি প্রকাশ করা হয়েছিল। জাফরি নিরাপত্তা পরিষদে যখন ছবিটি দেখাচ্ছিলেন তখন পূর্ব আলেপ্পোতে সরকারি বাহিনীর তুমুল অভিযানের মুখে লোকজন পালাচ্ছিল।
নিরাপত্তা পরিষদে বাশার জাফরি ছবিটিকে সিরিয়ার ছবি হিসেবে দেখানোর পর পরই টুইটারে ছবিটিকে ভুয়া হিসেবে উল্লেখ করেন সাংবাদিক, অ্যাক্টিভিস্ট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা।
কিল গ্লেন নামে একজন টুইটারে ছবিটি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়াবিষয়ক দূত ফাল্লুজায় এক নারীকে সহায়তারত অবস্থায় ইরাকি পিএমইউ-এর একটি ছবি দেখিয়েছেন, তিনি দাবি করেছেন এটি সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর ছবি।’
বরজু দারাগাহি নামের একজন টুইটারে লিখেছেন, ‘সিরিয়ায় নিয়োজিত জাতিসংঘের দূত ইরাকের একটি ছবি ব্যবহার করেছেন এবং দাবি করেছেন এটি আলেপ্পোর।’
/এফইউ/