ইদলিব হতে পারে পরবর্তী আলেপ্পো: জাতিসংঘ প্রতিনিধি

স্তেফান ডি মিস্তুরাযুদ্ধবিধ্বস্ত আলেপ্পোতে অস্ত্রবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর সেখান থেকে সরে যাচ্ছেন আটকা পড়া সাধারণ সিরীয় ও বিদ্রোহীরা। তারা ইদলিব নগরীর বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অংশে সরে যাচ্ছেন। কিন্তু ইদলিবও নিরাপদ নয়, তা হতে পারে পরবর্তী আলেপ্পো, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সিরিয়ায় জাতিসংঘের বিশেষদূত স্তেফান ডি মিস্তুরা।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, পূর্ব আলেপ্পোতে আটকা পড়া ৫০ হাজার মানুষের মধ্যে তিন হাজারেরও বেশি মানুষ বাসে করে সেখান থেকে সরে গেছে। এসব মানুষকে নিকটবর্তী ইদলিব শহরের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অংশে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

স্তেফান ডি মিস্তুরা জানিয়েছেন, ‘সেখানে ৪০ হাজার বেসামরিকসহ প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আটকা পড়ে আছেন। ৪০ হাজার বেসামরিকদের পশ্চিম সিরিয়ায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে তাদের যেন কোনও প্রতিবন্ধকতা না আসে, এজন্য আমরা সঙ্গে থাকব।’

তিনি আরও জানান, বাকি ১০ হাজারের মধ্যে দেড় হাজার থেকে পাঁচ হাজার হলো বিদ্রোহী যোদ্ধা ও তাদের পরিবার। তারা ইদলিবে আশ্রয় নেবেন।

তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, ‘কোনও রাজনৈতিক সমাধান ও কার্যকর অস্ত্রবিরতি চুক্তি সম্ভব না হলে ইদলিবই হতে পারে পরবর্তী আলেপ্পো।’

চলতি সপ্তাহে রুশ বাহিনীর সহায়তায় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগত বাহিনী আলেপ্পোর বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত প্রায় সব এলাকাই নিজেদের দখলে নেয়।

আলেপ্পোতে হামলার জন্য মার্কিন কর্তৃপক্ষ সিরিয়া সরকারের সমালোচনা করে বলছে, ‘এই হামলা গণহত্যা থেকে কম কিছু ছিল না।’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, ‘শেষ প্রশ্নটি হলো, রাশিয়া সমর্থিত সিরিয়া সরকার কি গঠনমূলক আলোচনার জন্য জেনেভায় যাবে, আর তারা নিজেদের জনগণকে হত্যা করা বন্ধ করবে কিনা।’ 

বাসে করে আলেপ্পো থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় আটকা পড়া মানুষদের

সিরিয়া ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ তোলা হলেও তা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে দেশ দুটি।

বৃহস্পতিবার সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদ তার বাহিনী ও জনগণকে আলেপ্পো ‘মুক্ত’ হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।

আলেপ্পোর যুদ্ধে বহু সাধারণ জনগণ নিহত হয়েছেন। তবে তার সঠিক সংখ্যা এখনও বলা সম্ভব হচ্ছে না বলে বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি সেখানে একটি নিরাপদ এলাকা গড়তে চান, যাতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও আংশিক আর্থিক সহায়তা করবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর শীর্ষ সম্মেলনে অ্যাঞ্জেলা মের্কেল আলেপ্পোর অবস্থাকে ‘হৃদয়বিদারক’ উল্লেখ করে বলেছেন, সেখানে ইউরোপীয় কূটনীতি ব্যর্থ হয়েছে। ইইউ কাউন্সিল-এর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক অনতিবিলম্বে আলেপ্পোতে মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানান।

ব্রিটেন জানিয়েছে, তারা আলেপ্পোতে পরিষ্কার পানি ও খাদ্যের জন্য আরও ২৫ মিলিয়ন ডলার ত্রাণ বরাদ্দ রেখেছে।

সূত্র: রয়টার্স।  

/এসএ/