পূর্ব আলেপ্পো থেকে ২৫ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে : রেডক্রস



nonameসিরিয়ার সংঘাতপূর্ণ আলেপ্পো নগরীর পূর্বাঞ্চল থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২৫ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে ওই এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া শুরু করা হয়।

আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির মুখপাত্র ইনগি সাদকি সাংবাদিকদের বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) আমরা পূর্ব আলেপ্পো থেকে ১৫ হাজার লোককে সরিয়ে নিয়েছি। বৃহস্পতিবারও সেখান থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে দুই দিনের সংখ্যা বিবেচনা করলে সরিয়ে নেওয়া মানুষের মোট সংখ্যা ২৫ হাজারে দাঁড়াবে।’

তিনি জানান, সেখানে এখনও হাজার হাজার মানুষ বাসে উঠে চলে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

এদিকে সিরিয়ার পূর্ব আলেপ্পো থেকে অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের সরিয়ে নিতে যে প্রক্রিয়া চলছে তা পর্যবেক্ষণ করতে জাতিসংঘের প্রতিনিধি মোতায়েনের অনুমোদন দিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে নিরাপত্তা পরিষদ। এর আগে একইরকম ছয়টি প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছিল রাশিয়া। তবে সোমবার (১৯ ডিসেম্বর) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবটি পাস হয়।

প্রস্তাবটির খসড়া তৈরি করেছিল ফ্রান্স। সোমবার সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবটি পাস করে নিরাপত্তা পরিষদ। পূর্ব আলেপ্পো থেকে লোকজন সরিয়ে নেওয়ার কাজ পর্যবেক্ষণ করতে দিকে এবং শহরটিতে থাকা বেসামরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানানো হয়েছে প্রস্তাবে। একইসঙ্গে পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তাদের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করার সুযোগ দিতে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে ওই প্রস্তাবে।

noname

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার আলেপ্পোতে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শেষ হওয়ার ঘোষণা আসে। যুদ্ধের ক্ষত নিয়ে মৃত্যুপুরী হয়ে ওঠা ওই শহর ছেড়ে সবাইকে সরে যাওয়ার সুযোগ দিতে চুক্তির কথা জানায় সরকার ও বিদ্রোহীরা। একদিনের মাথায় বুধবার আলেপ্পোবাসীর স্বপ্নকে স্বপ্নভঙ্গে পরিণত করে যুদ্ধবাজরা। ভেঙে পড়ে অস্ত্রবিরতি চুক্তি। দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হয়। আলেপ্পো ছেড়ে যেতে সক্ষম হন প্রায় ছয় হাজার বেসামরিক মানুষ। সক্ষম হন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্যরাও। একদিনের মাথায় শুক্রবার ওই চুক্তিটিও ভেঙে পড়ে। আলেপ্পো নগরী থেকে বেসামরিক নাগরিক ও বিদ্রোহী যোদ্ধাদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করে সিরীয় সরকার। শনিবার তৃতীয় দফায় কার্যকর হয় অস্ত্রবিরতি।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, এখনও আলেপ্পোতে সাত হাজারের মতো মানুষ আটকা পড়ে আছেন। তারা খাদ্য ও চিকিৎসা সংকটে ভুগছেন। সূত্র: স্পুটনিক,  বিবিসি, আল জাজিরা।

/এমপি/