চলতি বছরের ১২ জুন অরল্যান্ডোর পালস নাইট ক্লাবে চালানো হামলায় নিহত হন হামলাকারী ওমর মতিনসহ ৫০ জন। রাত দুইটার দিকে ক্লাব যখন জমজমাট, তখন ওমর মতিন ক্লাবটিতে ঢুকে পড়ে। তার কাছে ছিল একটি রাইফেলসহ তিনটি অস্ত্র। অস্ত্রের মুখে সে সবাইকে জিম্মি করে ফেলে। ঘণ্টা তিনেক পরে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় হামলাকারী নিহত হয়। এর আগে ওমর মতিন গুলি করে ৪৯ জনকে হত্যা করে। আহত হন ৫৩ জন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বন্দুকধারীর হামলায় এতো বেশি মানুষ হতাহতের ঘটনা এর আগে ঘটেনি।
অরল্যান্ডো পুলিশ জানিয়েছে, হামলার তিন ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারী ওমর মাতিনকে হত্যা করেন। কোনও কোনও গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, ওই নৈশ ক্লাবে তাণ্ডব চালানোর একপর্যায়ে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন আফগান বংশোদ্ভূত ২৯ বছর বয়সী ওমর।
তদন্তে জানা যায়, ওমর মতিন জরুরি সাহায্যের জন্য দেওয়া নম্বর ৯১১-এ ফোন করে নিজেকে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর ‘যোদ্ধা’ বলে দাবি করে। কিন্তু মার্কিন গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, মতিনের সঙ্গে আইএস-এর কোনও সরাসরি সংযোগ তারা খুঁজে পাননি। ধারণা করা হয়, ইন্টারনেটে প্রাপ্ত আইএস-এর প্রপাগান্ডা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মতিন এই জঙ্গি হামলা চালিয়ে থাকতে পারে।
সোমবার ডেট্রয়েটে অবস্থিত ফেডারেল আদালতে অরল্যান্ডো হামলায় নিহত টেভিন ক্রসবি, হাভিয়ার জর্জ-রিয়েস এবং হুয়ান র্যামন গুয়েরেরোর পরিবার ওই তিন প্রযুক্তি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।
মামলার বাদী পক্ষের দাবি, ‘তিন প্রযুক্তি কোম্পানি ফেসবুক, টুইটার এবং গুগলের ইউটিউবকে জঙ্গিরা প্রপাগান্ডা চালানো ও অর্থায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।’
বাদী পক্ষের অভিযোগ, ‘ফেসবুক, টুইটার এবং গুগল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে যেসব তথ্য হাজির করা হয়, তার কারণেই আইএস-এর উত্থান ঘটেছে। আর এর ফলে জঙ্গি হামলার পরিমাণ বেড়েছে।’
এই মামলার পর মঙ্গলবার ফেসবুক এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের সেবায় জঙ্গিবাদে জড়িত বা মদদ দেওয়া কোনও সংগঠনের জন্য কোনও স্থান নেই। আর এমন কোনও বিষয়ে রিপোর্ট করা হলে, তারা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।
টুইটার কর্তৃপক্ষ এ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করে রাজি হয়নি বলে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। গত আগস্টে কোম্পানিটি জানিয়েছিল, জঙ্গিবাদের প্রচারণা চালানোর অভিযোগে তারা ২০১৫ সালের মাঝামাঝি থেকে অন্তত তিন লাখ ৬০ হাজার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে।
গুগল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
সম্প্রতি ওই তিন প্রযুক্তি কোম্পানিসহ মাইক্রোসফট কর্পোরেশন উগ্রবাদী উপাদান প্রচার হওয়া থেকে রুখতে নিজেদের মধ্যকার সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে একমত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ওই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করলেও তা খারিজ হয়ে যেতে পারে। এর আগে প্রযুক্তি কোম্পানির সুরক্ষায় রচিত বিশেষ মার্কিন ফেডারেল আইনের আওতায় এইরকম মামলা খারিজ করা হয়েছে।
ফেডারেল কমিউনিকেশনস ডিসেন্সি অ্যাক্ট-এর ২৩০ ধারা অনুযায়ী, কোনও ব্যবহারকারীর পোস্টের জন্য ওয়েবসাইটের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান দায়ী নয়।
সূত্র: রয়টার্স।
/এসএ/