পাল্টাপাল্টি দোষারোপেই শেষ হলো কাজাখস্তান আলোচনার প্রথম দিন

আস্তানার বৈঠকসিরিয়া ইস্যুতে কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় আয়োজিত শান্তি আলোচনার প্রথম দিনটি কোনও ধরনের সফলতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। আলোচনার ব্যাপারে গুরুত্বের ঘাটতি থাকার জন্য সিরিয়ার সরকার ও বিরোধী এ দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে।

সিরিয়ার সরকারি প্রতিনিধি দলটির প্রধান বাশার আল জাফারি বিদ্রোহীদের প্রতিনিধিদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, যে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আস্তানার বৈঠককে হেয় ও বাতিল করার চেষ্টা করছে। আলোচনা সফল করার ক্ষেত্রে বিদ্রোহীদের দলটির মধ্যে আগ্রহের কমতি আছে বলেও অভিযোগ করেন জাফারি।

সোমবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের প্রতিনিধি দলটি দেশটির সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।   

সোমবার বিরোধীদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া আল আরিদি আলজাজিরাকে বলেন, ‘এ আলোচনাকে বাস্তব রূপ দেওয়ার জন্য যদি গুরুত্ব সহকারে কাজ করা হয় তবে সেখানে আনুষ্ঠানিকতার বিষয় খুব একটা জরুরি হয় না। আমরা অস্ত্রবিরতি নিয়ে কোনও প্রতিশ্রুতির লক্ষণ দেখতে পাইনি। সবার আগে এ ব্যাপারে স্বচ্ছতা ও সমঝোতা থাকা উচিত। এখানে আসা এবং এখানে সব পক্ষকে একসঙ্গে পাওয়ার মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে বিষয়টিকে রাশিয়া গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। কিন্তু আমরা ঘটনাস্থলে এর বাস্তবায়ন দেখতে চাই। আর সেকারণে বিষয়গুলো আমাদের জন্য পুরোপুরি আশাবাদী হওয়ার মতো নয়।’

কাজাখস্তানের শান্তি আলোচনায় সিরিয়ার সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে রাশিয়া ও ইরান। আর বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়েছে। 

কাজাখ আলোচনা
এদিকে বিদ্রোহীদের প্রতিনিধি দলটি যদি সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় না বসে তবে তা আদৌ ফলপ্রসূ হবে কিনা তা নিয়ে আগেই উদ্বেগ জানান কূটনীতিকরা। কূটনীতিক সূত্রের বরাত দিয়ে আল জাজিরার প্রতিনিধি মোহাম্মদ জামজুম বলেন, ‘এ আলোচনা আদৌ কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে কূটনীতিক সূত্রগুলো দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। কারণ, সরকারি প্রতিনিধি ও বিরোধীরা যেন মুখোমুখি আলোচনায় বসতে পারেন সেভাবেই এসব বৈঠকের পরিকল্পনা করা হয়ে থাকে।’

উল্লেখ্য, পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় ২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে সিরিয়াজুড়ে অস্ত্রবিরতির ব্যাপারে সম্মত হয় আসাদ সরকার ও সিরিয়ার বিদ্রোহী গ্রুপগুলো। ৩০ ডিসেম্বর মধ্যরাত থেকে সিরিয়াজুড়ে এ অস্ত্রবিরতি কার্যকর হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস), আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জাবাথ ফাতেহ আল-শাম এবং কুর্দি ওয়াইপিজি বিদ্রোহীরা ছাড়া বাকি পক্ষগুলো এ অস্ত্রবিরতির অন্তর্ভুক্ত। সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে বিদ্রোহীরা।

/এফইউ/