আপাতত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নেই জাকারবার্গের

ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গআপাতত মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনও পরিকল্পনা নেই ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের। তিনি জানান, এখন তিনি অনেক বেশি মনোযোগী তার গড়ে তোলা ফেসবুকের বিস্তৃতির দিকে। পাশাপাশি স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানের সঙ্গে গড়ে তোলা বিজ্ঞান ও নেতৃত্বের গবেষণা উদ্যোগ চ্যান জাকারবার্গ ইনিশিয়েটিভকেই (সিজেডআই) এগিয়ে নিয়ে যেতে চান জাকারবার্গ। শিগগিরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জাকারবার্গ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন—এমন গুজবের জবাব দিতে গিয়ে এসব কথা বলেছেন জাকারবার্গ। মার্কিন অনলাইন গণমাধ্যম বাজফিডের বরাতে বুধবার (২৫ জানুয়ারি) ব্রিটিশ অনলাইন পত্রিকা ইন্ডিপেন্ডেন্ট এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান।
খবরে বলা হয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জাকারবার্গের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আলোচনা চলছে। ওই সময় মার্কিন অনলাইন ব্লুমবার্গ একটি খবর প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়েছে, জাকারবার্গ ফেসবুকের পুঁজিবাজারের শেয়ারের পুনর্বিন্যস্ত করা নিয়ে এমন একটি ধারা সংযোজন করেছে যাতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, তিনি হোয়াইট হাউজের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এছাড়া, এ মাসের শুরুতে ভ্যানিটি ফেয়ার ম্যাগাজিনেও এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। তাতে বলা হয়, ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ৩০টি মার্কিন অঙ্গরাজ্য সফর করেছেন ফেসবুক ব্যবহারকারীদের সঙ্গে দেখা করতে। এটাও তার হোয়াইট হাউজে পদার্পণের ইচ্ছারই প্রতিফলন। এর বাইরেও জাকারবার্গ তার নিজের ফেসবুক প্রোফাইলের ছবি তোলার জন্য হোয়াইট হাউজের সাবেক এক আলোকচিত্রীকে কাজে লাগিয়েছিলেন। সিজেডআইয়ে তিনি ওবামা ও বুশের ‍সাবেক দুই ক্যাম্পেইন ম্যানেজারকেও নিয়োগ দিয়েছেন। এসব ঘটনাকে সবাই তার প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থিতার ইঙ্গিত বলেই ধরে নিয়েছিলেন।
তবে এসব ইঙ্গিতকে কষ্টকল্পিত বলে মনে করছেন জাকারবার্গ। তাই বলে রাজনীতিকে এড়িয়ে যাওয়ার কথা বলেননি তিনি। বরং ‘মানুষে মানুষে আরও সাম্যতা ও বিভিন্ন রোগের সমাধান খুঁজতে গবেষণা’র যে উদ্যোগ জাকারবার্গ নিয়েছেন, তার লক্ষ্য পূরণে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠতেই পারেন বলে বাজফিডকে জানিয়েছে জাকারবার্গের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র।
তাছাড়া নিকট ভবিষ্যতে হোয়াইট হাউজের পথ মাড়ানোর কথা অস্বীকার করেছেন জাকারবার্গ। কিন্তু ভবিষ্যতে কখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদের জন্য লড়াই করবেন না, এমন কথা সরাসরি বলেননি তিনি। ফলে নিকট ভবিষ্যতে না হলেও সুদূর ভবিষ্যতে হোয়াইট হাউজের দরজায় কড়া নাড়তে দেখা যেতেই পারে ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করে গোটা বিশ্বে সাড়া ফেলে দেওয়া জাকারবার্গকে।

আরও পড়ুন-

ট্রাম্পের কাছে সিরিয়ান শিশুর খোলা চিঠি

ট্রাম্পের সংরক্ষণবাদে ঝুঁকিতে মার্কিন অর্থনীতি



/টিআর/এমএনএইচ/