বিতর্কিত ডাকোটা অ্যাক্সেস ও কিস্টোন পাইপলাইন স্থাপনের অনুমতি, সরকারি কর্মকর্তাদের থামিয়ে দিয়েএনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সির (ইপিএ) চুক্তি বাতিল এবং প্রথমবারের মতো ইপিএ-র ওয়েবসাইট থেকে জলবায়ু পরিবতর্নের কথা মুছে ফেলার নির্দেশের মধ্য দিয়ে এ আতঙ্ক তৈরি করেছেন ট্রাম্প। জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বিশ্বাস করেন না নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার মতে, এসব তথ্য ভিত্তিহীন। জ্বালানি চাহিদা মেটানোর জন্য জীবাশ্মের ভালো বিকল্প নেই।
নিজেদের কাজ নিয়ে সম্প্রতি হোয়াইট হাউস থেকে কয়েক মাইল দূরত্বে এক বৈঠকে মিলিত হন জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিজ্ঞানীরা। সূত্র বলছে, এ বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন আসলেই বাস্তবিক কিনা-এমন কোনও কথা হয়নি। তবে বৈঠক শেষে মিডিয়ার কাছে মুখ খুলতে চাননি তারা।
মঙ্গলবার এক ইপিএ কর্মী বলেন, আমি জানি না কী ঘটতে চলেছে। কেউই জানে কী ঘটবে। এটা অদ্ভুত। লোকজন আমার দিকে এগিয়ে এসে আলিঙ্গন করছেন। তবে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের শিকার হওয়ার আশঙ্কায় অনেক ইপিএ কর্মীর মতো তিনিও নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিজের এমন অভিজ্ঞতার কথা জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার এই কর্মী জানিয়েছেন, এরইমধ্যে ইপিএ-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে কর্মকর্তাদের নিষেধ করেছেন। এমনকি ব্লগ লিখতে ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠাতেও বারণ করা হয়েছে। শুধু একান্ত জরুরি বিষয়গুলো বার্তা হিসেবে দেওয়া যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া অফিসের বাইরে কর্মীদের যে কোনও বৈঠক বা সেমিনারের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে অবগত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একজন বিজ্ঞানী জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সংকটের কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের এমন আতঙ্কে থাকার ফলে তাদের কাজে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
ইপিএ প্রধান হিসেবে মনোনীত স্কট প্রুইট-ও ট্রাম্পের সুরে কথা বলছেন। গত সপ্তাহে তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন আসলেই বাস্তব কিনা তা নিয়ে আমাদের কোনও আলোচনাই হয়নি।
পরিবেশবাদীদের আপত্তি সত্ত্বেও ট্রাম্প যেন জলবায়ু সুরক্ষার গলা টিপে ধরার পথে অগ্রসর হচ্ছেন। সরকারি বিধিনিষেধের কবলে তাই জলবায়ু ইস্যুতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংকটের আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। শঙ্কা রয়েছে নিজেদের দীর্ঘ পেশাগত জীবন নিয়েও।
জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একজন জানান, কৃষি বিভাগের একজন কর্মী তাকে অপেক্ষাকৃত ভালো বেশকিছু প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তখনও জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে রাষ্ট্রীয় খড়গ স্পষ্ট না হওয়ায় সেসব প্রস্তাব নাকচ করে দেন এই জলবায়ু কর্মী।
নিজের নেমপ্লেট সরিয়ে ফেলে এই জলবায়ু কর্মী বলেন, ‘আমি আসলে আপনার সঙ্গে কথা বলতে ভয় পাচ্ছি।’ তিনি যখন এ কথা বলছিলেন তখন তার চোখের ভাষা এবং কষ্টের হাসি যেন তার অন্য সহকর্মীদের অবস্থারও জানান দিচ্ছিল। বাস্তবিকই অন্য অনেকের মধ্যে এটা দেখা গেছে।
নিজ কর্মস্থলের আসন্ন নিয়তির শঙ্কাকে সঙ্গী করেই কাজ করে যাচ্ছেন মার্কিন গবেষক-বিজ্ঞানীরা। মশার কামড় থেকে শুরু করে তাপপ্রবাহের ফলে সৃষ্ট রোগবালাই নিয়ে নিজেদের গবেষণা প্রতিবেদন হাজির করছেন তারা। কাজ করছেন পানির প্রাপ্যতা হ্রাস আর বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে এতো কাজের মধ্যেও একটা অন্ধকার রাজনীতির থাবার মধ্যে রয়েছেন তারা।
জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে মার্কিন সিনেটে প্রথম শুনানি হয়েছিল ৩০ বছরেরও বেশি সময় আগে। এতোদিনে বৈশ্বিক উষ্ণতা আরও বেড়েছে। বিজ্ঞানীদের সঙ্গে নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের সামগ্রিক ইস্যুটি অনুধাবনের চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারগুলো। এর মধ্য দিয়ে তারা মানুষ ও ধরিত্রীকে বাঁচানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আগের সরকারগুলোর সেই চেষ্টা হয়তো থামিয়ে দেবেন ট্রাম্প। তবে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়ার আগ পর্যন্ত শঙ্কা নিয়েই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। সূত্র: দ্য ইন্টারসেপ্ট।
/এএ/এমপি/