‘স্টাচু অব লিবার্টির চিবুক বেয়ে অশ্রু নামছে’

nonameশরণার্থী সীমিতকরণে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নির্বাহী আদেশের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সিনেটের ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতা চাক শুমার। তিনি একে স্টাচু অব লিবার্টির চিবুক বেয়ে অশ্রু ঝরে পড়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

শুক্রবার এক নির্বাহী আদেশে তিন মাসের জন্য ৭ মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে স্থগিতাদেশ দেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি শরণার্থী কর্মসূচি চার মাসের জন্য স্থগিত করেন তিনি। তবে সব শরণার্থীর বেলায়, কর্মসূচি স্থগিতের মেয়াদ নির্দিষ্ট ৪ মাস হলেও সিরিয়ার ক্ষেত্রে এই মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের। প্রশাসনের শরণার্থী সীমিতকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওই নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন নবনির্বাচিত এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট। এই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের ক্ষেত্রে মুসলিম প্রধান দেশগুলোর মুসলিমদের বদলে খ্রিস্টান ও সংখ্যালঘুদের প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলা হয়। এভাবেই, যেন শরণার্থীদের বিভাজন-সূত্র প্রকাশ করলেন ‘বিভক্তির প্রেসিডেন্ট’!

প্রতিক্রিয়ায় চাক হেগেল এই সিদ্ধান্তকে প্রেসিডেন্টের জারি করা সবচেয়ে পশচাদপদ ও বাজে নির্বাহী আদেশ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমেরিকা প্রতিষ্ঠার পর থেকে যে ঐতিহ্যটি বিদ্যমান রয়েছে তা বাতিল করায় আজ রাতে স্ট্যাচু অব দ্য লিবার্টির চিবুক দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।’

হেগেল মন্তব্য করেছেন,  অভিবাসী ও শরণার্থীদের গ্রহণ করাটা কেবল মানবিকই নয়, তারা আমাদের অর্থনীতিকে দৃঢ় করেছে এবং দশকের পর দশক ধরে  কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।

শরণার্থী কর্মসূচি স্থগিত ও মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করতে গিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  আদেশ জারির পর পরই এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়।

দ্য কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স (সিএআইআর) নামের এক বিখ্যাত আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে, নয়া প্রেসিডেন্টের এই আদেশ সংবিধানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আদেশটিকে একটি ফেডারেল মামলা দায়েরের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্পের এ আদেশের মূল উদ্দেশ্য মুসলিম প্রধান দেশগুলোর ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা। এদিকে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও খ্যাতনামা ব্যক্তিরা ট্রাম্পের আদেশ নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

/এফইউ/বিএ/