উল্লেখ্য, সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সব সন্ত্রাসী হামলার খবর সংবাদমাধ্যমে যথাযথভাবে আসে না দাবি করে ৭৮টি হামলার তালিকা প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউস। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হওয়া বিভিন্ন হামলাকে এ তালিকার অন্তর্ভূক্ত করা হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দেওয়া বেশ কিছু সন্ত্রাসী হামলাকেও এ তালিকার অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এসব হামলার মধ্যে রয়েছে- প্যারিসের বাতাক্লঁতে হামলা, নিস শহরে ট্রাক হামলা, সান বার্নার্ডিনোর বন্দুক হামলা, সিডনির ক্যাফেতে জিম্মিদশা এবং জার্মানির ক্রিসমাস মার্কেটে হামলা। গার্ডিয়ানের দাবি, এসব হামলার খবর আন্তর্জাতিকভাবে বিস্তৃত কাভারেজ পেয়েছিল। অথচ হোয়াইট হাউস এগুলোকে মিডিয়া কাভারেজ না পাওয়া ঘটনার তালিকায় রেখেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর দাবি, তালিকায় এমন কিছু হামলাকে যুক্ত করা হয়েছে যার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের সংশ্লিষ্টতা থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভূক্ত একটি ঘটনাকে তুলে ধরেছে পলিটিকো। তালিকা অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ফিলোডেলফিয়াতে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করা হয়। জেসে হারনেট নামের ওই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন। যে দুর্বৃত্ত তাকে গুলি করেছিল সে ব্যক্তি আইএস দ্বারা অনুপ্রাণিত বলে লোকজনকে বলে বেড়াতো।
এরকম আরেকটি ঘটনা আছে যার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনাটি ২০১৪ সালের। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে আলজেরিয়ায় জিম্মি থাকা এক ফরাসি পর্যটককে শিরশ্ছেদ করা হয় বলে বলা হয়ে থাকে। এ ঘটনাটি ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ড হলেও একে প্রচলিত অর্থে সন্ত্রাসবাদের কাতারে ফেলা যায় না বলে মনে করছে পলিটিকো।
সংবাদমাধ্যমটির অভিযোগ, হোয়াইট হাউস প্রকাশিত ওই তালিকায় ইসরায়েলের কোনও হামলাকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। অথচ ২০১৫-২০১৬ সাল পর্যন্ত সেখানে অনেকগুলো ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ২০১৫ সালের জুনে চার্লেস্টন চার্চে হামলা এবং নভেম্বরে কলোরাডোর একটি ক্লিনিকে বন্দুক হামলার ঘটনাকেও তালিকার অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি।
অবশ্য, এ ব্যাপারে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসার বলেছেন, পরবর্তীতে আরেকটি তালিকা প্রকাশ করা হবে। আরও অনেক ঘটনাকেই তালিকার অন্তর্ভূক্ত করার বাকি আছে বলে স্বীকার করেছেন তিনি।
তালিকায় উল্লিখিত ৭৮টি হামলার মধ্যে ১১টি যুক্তরাষ্ট্রে হয়েছে। এছাড়া তালিকায় থাকা অন্য হামরাগুলোর ঘটনাস্থল হিসেবে যেসব দেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো হলো- আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, বেলজিয়াম, বসনিয়া, ব্রিটেন, কানাডা, শাদ, ডেনমার্ক, মিসর, ফ্রান্স, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, কুয়েত, লিবিয়া, ফিলিপাইন, সৌদি আরব, সুইডেন, তিউনিসিয়া, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।
সব সন্ত্রাসী হামলার খবর সংবাদমাধ্যমে যথাযথ গুরুত্ব পায় না বলে সোমবার ট্রাম্প অভিযোগ করার পরই তালিকাটি প্রকাশ করা হলো। সোমবার সকালে ট্রাম্প বলেন, অভিযোগ করেছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্যারিসে কী হয়েছে, নিসে কী হয়েছে তা আপনারা দেখেছেন। পুরো ইউরোপে এমনটা হচ্ছে। এমন ঘটনাও আছে যার কোনও খবরই পাওয়া যায় না। আবার অনেক ক্ষেত্রে অসৎ সংবাদমাধ্যমগুলো সেইসব খবর প্রকাশ করতে চায় না। এর পেছনে কারণ আছে এবং আপনারা তা বোঝেন।’
/এফইউ/