এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি নির্মাণ কাজ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করে রামাল্লাহর নিকটবর্তী ইমেক শিলো নামক এলাকায় নতুন বসতি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) ইসরায়েলের নতুন বসতি স্থাপনের প্রস্তাবটি মন্ত্রিপরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
ইসরায়েলি সিদ্ধান্তে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড কেড়ে নেওয়ার ঘটনাকে ‘হতাশাজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তার মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক বলেন, ‘মহাসচিব এই ইসরায়েলি সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন। দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একে হুমকি বলেও মনে করেন তিনি। মহাসচিব প্রতিনিয়ত বলে আসছেন, ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদভাবে বসবাসের জন্য এর কোনও বিকল্প নেই।’ শুক্রবার এক বিবৃতিতে দুজারিক এসব কথা বলেন।
এর আগে নেতানিয়াহু সাংবাদিকদের জানান, ‘আমরা নতুন একটি বসতি স্থাপনের অঙ্গীকার করেছি....আজ তা আমরা রক্ষা করব।’
ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়েছেন পিএলও-র নির্বাহী কমিটির সদস্য হানান আশরাউয়ি। তিনি বলেন, ‘আজকের ঘোষণার মধ্য দিয়ে আরও একবার প্রমাণ হলো যে স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের চেয়ে অবৈধ বসতি স্থাপনকারী জনগোষ্ঠীকে শান্ত করতেই বেশি বদ্ধপরিকর ইসরায়েল।’
উল্লেখ্য, ১৯৯০ এর দশকের শুরু থেকে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে বেশ কয়েক দফায় শান্তি আলোচনা হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা চায় পশ্চিম তীরে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে এর রাজধানী বানাতে। ১৯৬৭ সালের আরব যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে। পূর্ব জেরুজালেমকে নিজেদের অবিভাজ্য রাজধানী বলে দাবি করে থাকে ইসরায়েল। অবশ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পূর্ব জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ১৯৬৭ সালের পর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ১শরও বেশি বসতি স্থাপন করেছে ইসরায়েল। পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে স্থাপিত প্রায় ১৪০টি বসতিতে ৬ লাখেরও ইসরায়েলি বসবাস করে। আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এ বসতি স্থাপনকে অবৈধ বলে বিবেচনা করা হলেও তা মানতে নারাজ ইসরায়েল।
সূত্র: আলজাজিরা।
/এসএ/বিএ/