মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতে (সিরিয়ায় স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোরে) ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করা যুক্তরাষ্ট্রের দু’টি যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস পোর্টার এবং ইউএসএস রস থেকে আসাদ সরকার নিয়ন্ত্রিত আল-শায়রাত বিমানঘাঁটিতে ৫৯টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। হামলায় ঘাঁটিতে রাখা যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারসহ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চল ইদলিবে বিমান থেকে চালানো রাসায়নিক গ্যাস হামলার জবাবেই মার্কিন বাহিনী ওই হামলা চালিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘সিরিয়ার চালানো রাসায়নিক হামলার জবাবে আমি সামরিক স্থাপনায় ওই হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছি। এই মারাত্মক রাসায়নিক অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।’
উল্লেখ্য, ইদলিবে ওই রাসায়নিক গ্যাস হামলায় ৮৬ জন নিহত হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে, ২০১৩ সালের আগস্টে সারিন গ্যাস হামলার অভিযোগ ওঠার পর এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ রাসায়নিক হামলা। আসাদবিরোধী বিদ্রোহীরা এই হামলায় সরকারী বাহিনী ও রাশিয়াকে দুষলেও এ দাবি অস্বীকার করেছে সিরীয় সেনাসূত্র ও রুশ কর্তৃপক্ষ।
২০১৩ সালের রাসায়নিক হামলায় প্রায় এক হাজার ৩০০ মানুষ নিহত হন। ওই হামলার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সিরিয়ায় সামরিক আগ্রাসন চালানোর কথা বলেছিলেন। আর টুইটারে তার সমালোচনার ঝড় তুলেছিলেন ট্রাম্প।
২০১৩ সালের কয়েকটি টুইটবার্তায় ট্রাম্পের তৎকালীন অবস্থান তুলে ধরা যেতে পারে। ২৯ আগস্ট এক টুইটবার্তায় তিনি বলেছিলেন, ‘সিরিয়ায় বোমা ফেলে ঋণের বোঝা বাড়ানো ছাড়া আমাদের আর কী পাওয়ার আছে? হামলার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন দরকার ওবামার।’
৩১ আগস্ট অপর এক টুইটারে তিনি বলেছিলেন, ‘যদি ওবামা সিরিয়ায় হামলা চালান আর তাতে নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি ঘটে, তাহলে তাকে ও যুক্তরাষ্ট্রকে খারাপ চোখে দেখা হবে।’
৪ সেপ্টেম্বর ওবামাকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, সিরিয়া থেকে দূরে থাকুন।’
এর পরদিন এক টুইটবার্তায় তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের বোকা নেতাকে আবারও বলতে চাই, সিরিয়ায় হামলা চালাবেন না। ওই হামলার অনেক বাজে প্রতিক্রিয়া হবে। কিন্তু তাতে যুক্তরাষ্ট্র কিছুই পাবে না।’
৭ সেপ্টেম্বর অপর এক টুইটে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ওবামা, সিরিয়ায় হামলা চালাবেন না। এখানে অর্জনের কিছু নেই। কিন্তু হারানোর আছে অনেক কিছুই। কোনও এক গুরুত্বপূর্ণ দিনের জন্য আমাদের শক্তি সঞ্চয় করে রাখুন।’
২০১৩ সালে ট্রাম্প এসব কথা বললেও এবারের হামলায় তিনি কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজনও মনে করেননি। আবার হামলার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কাও করা হয়নি।
সিরিয়ান অবজারভেটরি জানিয়েছে, মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় বিমানঘাঁটিটি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ওই হামলায় অন্তত চারজন সিরীয় সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন বহু সেনা সদস্য। ওই ঘাঁটিতে থেকে সুখোই ২২, সুখোই ২৪ এবং মিগ ২৩ বিমান ছিল। নিহতদের মধ্যে একজন জেনারেল পদমর্যাদার সামরিক কর্মকর্তাও ছিলেন বলে জানায় সিরিয়ান অবজারভেটরি।
এদিকে রাশিয়া জানিয়েছে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠকের দাবি জানাবে তারা। রাশিয়ান ফেডারেশন কাউন্সিলের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির প্রধান ভিক্টর অজেরভ বলেন, রাশিয়া প্রথমে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠকের দাবি জানাবে। এ কর্মকাণ্ড জাতিসংঘের একটি সদস্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মার্কিন আগ্রাসন বলেই বিবেচিত হবে।’
রাশিয়ার পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা কমিটি জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ওয়াশিংটন-মস্কো সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে। আর এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত বাড়তে পারে।
সৌদি আরব হামলা সমর্থনে বক্তব্য দিয়েছে। তবে আসাদ সরকারের ঘনিষ্ট মিত্র ইরান এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
/এসএ/
আরও পড়ুন
সিরিয়ার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ‘যুদ্ধ’ শুরু!
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘বিমান নিরাপত্তা চুক্তি’ বাতিল করলো রাশিয়া