আফগানিস্তানে সবচেয়ে ভয়ংকর বোমা নিক্ষেপে ট্রাম্পের উচ্ছ্বাস

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পআফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।   

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে আইএস জঙ্গিদের অবস্থান লক্ষ্য করে সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা জিবিইউ-৪৩ নিক্ষেপ করে মার্কিন বাহিনী।

হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই বোমা হামলা সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘আরও একটি সফল বোমা হামলা চালিয়েছে আমাদের সেনাবাহিনী। আমি আমাদের সেনাবাহিনী নিয়ে খুবই গর্বিত।’ তবে হতাহত বা বোমা হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।   

ওই বোমাটিকে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ বলে উল্লেখ করা হয়। পারমাণবিক বোমা বাদ দিলে এটাই সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা। যুদ্ধক্ষেত্রে এই বোমাটি প্রথমবারের মতো নিক্ষেপ করা হয়।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের মুখপাত্র অ্যাডাম স্টাম্প বলেন, এই বোমাটি যুদ্ধে এই প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয়েছে। বোমাটি এমসি-১৩০ যুদ্ধ বিমান থেকে নিক্ষেপ করা হয়। আইএস জঙ্গিদের গোপন সুড়ঙ্গ, গুহা ও বাংকারে এ বোমা নিক্ষেপ করা হয়।

এ বোমা হামলায় হতাহতের নিশ্চিত কোনও তথ্য জানায়নি মার্কিন কর্তৃপক্ষ। তবে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, হামলায় বেশ কয়েকজন আইএস জঙ্গি নিহত হয়েছে।  

তবে এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমি আফগানিস্তানে চালানো এ মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। এটা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়, বরং এটা অমানবিক ও নৃশংসভাবে আমাদের দেশকে নতুন ও ভয়ংকর বোমার পরীক্ষাক্ষেত্রে পরিণত করে তোলা।’

এ ধরনের বোমার একেকটির ওজন হয় ১০ হাজার কিলোগ্রাম এবং প্রতিটিতে থাকে ৮ হাজার ১৬৪ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক। এটার বিস্ফোরণ ক্ষমতা ১১ টন টিএনটির সমান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিরোশিমায় নিক্ষেপিত লিটল বয় নামক পারমাণবিক বোমাটির বিস্ফোরণ ক্ষমতা ছিল ১৫ টন।

ইরাকেও এ ধরনের বোমা মোতায়েন করা হয়েছে। তবে কখনও ব্যবহার করা হয়নি। জিপিএস নিয়ন্ত্রিত এই বোমাটি ইরাক যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন আগে ২০০৩ সালের মার্চ মাসে পরীক্ষামূলকভাবে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল।

আফগানিস্তানে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল জন নিকোলসন জানান, বোমাটি আইএসের সুড়ঙ্গ ও বাংকার লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আইএসের বিরুদ্ধে অভিযানে বাধা দূর এবং নিজেদের আক্রমণ বজায় রাখতে এটাই সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র।

/এসএ/