ইয়েমেনে বিমান হামলা ও সেনা-বিদ্রোহী সংঘর্ষে ২৫ জন নিহত

yemen 2_0ইয়েমেনের চলমান গৃহযুদ্ধে শনিবার সরকারী ও বিদ্রোহী বাহিনীর ২৫ জন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে মার্কিন সমর্থনপুষ্ট সৌদি জোটের বিমান হামলায় ৯ জন বিদ্রোহী নিহত হয়েছেন। আর রাতব্যপী সরকারি সেনাদের সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ১২ বিদ্রোহীসহ ৪ জন সেনা।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই ইয়েমেনের সেনা ও হাসপাতালসূত্রের বরাত দিয়ে হতাহতের এই খবর জানিয়েছে।

মিডল ইস্ট আইয়ের খবরে সেনাসূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে খালেদ বিন আল ওয়ালিদ নামের এক ঘাঁটির দখল নিয়ে রেখেছিল শিয়া ধর্মাবলম্বী হুথি বিদ্রোহীরা। ইয়েমেনের সেনাসূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি ইয়েমেনি সেনারা ওই সেনাঘাঁটির কাছাকাছি এক পাহাড়ের দখল নেয়।

মিডল ইস্ট আই সেনাসূত্রকে উদ্ধৃত করে আরও জানিয়েছে, ওই পাহাড়ে সরকারী সেনারা অবস্থান নেওয়ার পর আন্তর্জাতিকভাবে হুথিদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পরিচিত মনসুর হাদি তার বাহিনীকে নিয়ে দুই দিক থেকে অগ্রসর হন।  

ওই ঘাঁটিটি ইয়েমেনের সবচেয়ে বড় ঘাঁটিগুলোর একটি। সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা লোহিত সাগরের শহর মোকহা থেকে এটি ৩০ কিলোমিটার দূরে। ফেব্রুয়ারিতে মোকহার পুনর্দখল নিতে সমর্থ হয় সরকারী বাহিনী। মোকহা থেকে ওই খালেদ বিন আল ওয়ালিদ ঘাঁটির ৩০ কিলোমিটার পথে তাইজ নামের একটি শহর রয়েছে। সেই শহরটি বিদ্রোহীদের দখলে। সেই তাইজ শহর থেকে নিজেদের ঘাঁটিতে ফেরার পথেই মার্কিন সমর্থনপুষ্ট সৌদি জোটের বিমান হামলার শিকার হন বিদ্রোহীরা। সেনা ও হাসপাতল সূত্রকে উদ্ধৃত করে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, বিমান হামলায় ৯ জন বিদ্রোহী নিহত হন।

এদিকে রাতব্যপী সংঘর্ষে আরও ১২ বিদ্রোহী ও ৪ নো নিহত হন।

দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইয়েমেন। দেশটির অর্ধেক অংশের বাসিন্দা এখন দুর্ভিক্ষের এক ধাপ আগের অবস্থানে রয়েছেন। ২২টি প্রশাসনিক অঞ্চলের ১০টিতেই এমন পরিস্থিতি বিদ্যমান। শুক্রবার জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, এসব এলাকায় মারাত্মক খাদ্য সংকট বিরাজ করছে।

একদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা, তার ওপর দীর্ঘ সময় ধরে চলছে সৌদি বিমান হামলা। সামগ্রিক খাদ্য সরবরাহ পরিস্থিতি ক্রমেই বিপদজনক অবস্থার দিকে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশটিতে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি আরও প্রকট হচ্ছে।

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ডব্লিউএফপি- এর আঞ্চলিক পরিচালক ম্যাথিউ হলিংওয়ার্থ। তিনি মনে করেন, এটা পরিষ্কার যে, নিরাপত্তা উদ্বেগের দিক থেকে এ মুহূর্তে ইয়েমেন একটি বিপদজনক স্থান। দেশজুড়ে সংঘাত-সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ম্যাথিউ হলিংওয়ার্থ বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। কিন্তু দেশের অর্ধেক অংশ দুর্ভিক্ষের এক ধাপ আগের অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থায় আমরা বিশেষ করে আগামি কয়েক মাসের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য কামনা করছি।
জাতিসংঘের হিসাবে, ইয়েমেনের দুই কোটি ৩০ লাখ মানুষের মধ্যে এক কোটি ৪৪ লাখ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। স্বাস্থ্যকর জীবনের জন্য তারা পর্যাপ্ত খাবার পেতে লড়াই করছে।

পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, সাত লাখ ৬০ হাজার মানুষ খাবার সংগ্রহের জন্য মরিয়া হয়ে আছে।

/এফইউ/বিএ/