মিসরের কপটিক খ্রিস্টানদের ওপর জঙ্গি হামলার নিন্দা জানিয়েছে হামাস

কপটিক খ্রিস্টানদের আহাজারিমিসরে কপটিক খ্রিস্টানদের ওপর জঙ্গি হামলার নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের সংগঠন হামাস। আরবি সংবাদমাধ্যম আল-রিসালাহর বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে মিডলইস্ট মনিটর।

শুক্রবার মধ্য মিসরের মিনিয়া প্রদেশে কপটিক খ্রিস্টানদের বহনকারী একটি বাসে বন্দুকধারীরা হামলা চালায়। এতে ৪০ জন নিহত হন বলে জানিয়েছে মিসরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, তখন দুটি বাস ও একটি ট্রাকে করে স্থানীয় কপটিক খ্রিস্টানরা প্রার্থনার জন্য সেন্ট স্যামুয়েল আশ্রমে যাচ্ছিলেন। এ সময় ওই মুখোশ পরা বন্দুকধারীরা দুটি বাসে গুলি চালানো শুরু করে। ওই হামলার দায় স্বীকার করে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

জঙ্গি হামলার কিছুক্ষণ পরই হামাস এক বিবৃতিতে নিন্দা জানিয়েছে। হামাসের মুখপাত্র ফৌজি বারহোম ওই  বিবৃতিতে বলেন, ‘মিসরের কপটিক খ্রিস্টানদের ওপর হামলা চালানো হলো এক জঘণ্য ঘটনা। মিসরের নিরাপত্তা অস্থিতিশীল করতে চালানো এ হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি আমরা।’ জাতিগত ও বর্ণবিদ্বেষ ছড়াতে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। ওই বিবৃতিতে বারহোম আরও বলেন, ‘এমন হামলায় শুধু মিসর ও বিশ্বের শত্রুরাই লাভবান হয়েছে।’

মিসরের সামরিক সূত্রে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, মিসরের কপটিক খ্রিস্টানদের ওপর হামলায় লিবিয়া আইএস জঙ্গিরা জড়িত বলে তারা ধারণা করছেন।

কফিন হাতে কপটিক খ্রিস্টানদের বিক্ষোভ

মিসরের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, ওই হামলার পর লিবিয়া সীমান্তের নিকটবর্তী দেরনা শহরে ‘জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরে’ অভিযান চালায় দেশটির বিমানবাহিনী।

এর আগেও আইএস কপটিক খ্রিস্টানদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ২০১৫ সালে জঙ্গিরা ২১ জন কপটিক খ্রিস্টানের শিরশ্ছেদ করে। তখন দেরনার নিকটবর্তী এলাকায় আইএসের সন্দেহভাজন আস্তানায় অভিযান চালিয়েছিল মিসরের সেনাবাহিনী।

২০১১ সালে লিবিয়ায় ইঙ্গ-মার্কিন আগ্রাসনে দেশটির স্বৈরশাসক মিয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে দেশটির বেশিরভাগ এলাকা বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেখানে আইএসের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিও রয়েছে। 

উল্লেখ্য, মিসরের মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ খ্রিস্টান। জঙ্গি সংগঠনগুলো প্রায়ই খ্রিস্টানদের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে থাকে। গত এপ্রিলে পাম সানডে উৎসব চলার সময় তান্তা আলেক্সান্দ্রিয়া শহরের বিভিন্ন গির্জায় দুটি আলাদা বোমা হামলায় ৪৪ জন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন। তখনও হামাস ওইউ হামলার নিন্দা জানিয়েছিল। এর আগে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে কায়রোর বৃহত্তর কপটিক ক্যাথেড্রোলে বোমা হামলায় ২৫ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হন।  

/এসএ/