সোমবার উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে খামেনি বলেন, ‘আপনারা (যুক্তরাষ্ট্র) এবং আপনাদের এজেন্টরাই মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে রেখেছেন। কে এই ইসলামিক স্টেট সৃষ্টি করেছে? আমেরিকা... ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে আমেরিকার যুদ্ধের দাবি মিথ্যা।’ খামেনির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়।
১৯৭৯ সালে ইরানে ‘ইসলামি বিপ্লবের’ পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়। ওই সময় থেকেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে শত্রুতাপূর্ণ অবস্থান রয়েছে তেহরানের।
খামেনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনও ইচ্ছা নেই ইরানের। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র একটি সন্ত্রাসী দেশ এবং সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেয়। এ জন্য আমরা তাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পারি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন সরকার একটি স্বাধীন ইরানের বিরোধী। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের অস্তিত্বই তাদের জন্য সমস্যা। আমাদের সঙ্গে তাদের বেশিরভাগ সমস্যারই সমাধান সম্ভব নয়।’
আইএস ও অন্যান্য উগ্রবাদী গোষ্ঠিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং তার আঞ্চলিক মিত্র সৌদি আরবকে দায়ী করেন খামেনি। এর আগে বুধবার প্রথমবারের মতো তেহরানে হামলা চালায় আইএস। এতে নিহত হন ১৭ জন। ওই ঘটনার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করে আসছে ইরান। যদিও তা অস্বীকার করেছে রিয়াদ।
ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি কোনও দেশের দিকে ইঙ্গিত না করলেও বুধবারের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র এবং পাঁচ বিশ্বশক্তির সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে একটি চুক্তি করেন তিনি। চুক্তির আওতায় পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
তবে এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়নি ইরানের। শুরু থেকেই এই চুক্তিকে ‘সর্বকালের সবচেয়ে খারাপ চুক্তির একটি’ বলে আখ্যায়িত করে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তি পুনর্বিবেচনার কথাও বলেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের পর থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে কট্টর অবস্থানে আছেন ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের ধারণা, তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক ইস্যুতে ওবামা প্রশাসনের চেয়ে অনেক কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা নির্বাচনি প্রচারণার সময়েই জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।
/এসএ/