কুয়েতি সংবাদমাধ্যমে ‘সৌদি জোটকে কাতারের দেওয়া জবাব’ প্রকাশ

সৌদি জোটের ১৩ দফা শর্তের ব্যাপারে কাতার যে জবাব দিয়েছে তা এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করা হলেও এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানার দাবি করেছে কুয়েতি সংবাদমাধ্যম ইনফেরাআদ নিউজ এজেন্সি। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর জানায়, কাতারের ওই লিখিত জবাবের ব্যাপারে জানাশোনা রয়েছে এমন এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে ইনফেরাআদ খবরটি প্রকাশ করেছে।

কাতারের আমিরের দেওয়া লিখিত জবাব পড়ছেন কুয়েতের আমির
কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল-আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহ দোহার সঙ্গে সৌদি জোটের বিরোধ নিরসনে অন্যতম মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করছেন। সোমবার ১৩ দফা শর্তের ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান জানাতে কুয়েত যান কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কুয়েতের আমিরের কাছে কাতারের আমিরের হাতে লেখা চিঠি হস্তান্তর করা হয়। পরে তা সৌদি জোটের কাছে হস্তান্তর করে কুয়েত। তবে ওই চিঠিতে কী আছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।

কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার সৌদি জোটের শর্ত প্রত্যাখ্যান করে সংলাপ দাবি করেছিলেন। মঙ্গলবারও তিনি সৌদি জোটের দেওয়া শর্তগুলোকে খুবই অবাস্তব এবং পূরণযোগ্য নয় উল্লেখ করে সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের প্রস্তাব দেন। তবে মধ্যস্থতাকারী দেশ কুয়েতের তরফ থেকে সোমবার বলা হয়েছিল ১৩ দফা শর্তের ব্যাপারে কাতারের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া গেছে।  যদিও কাতার কোন কোন শর্তের ব্যাপারে সাড়া দিয়েছে, তখন তা জানায়নি কুয়েত। বুধবার ইনফেরাআদ নিউজ এজেন্সির খবর থেকে জানা গেছে, সৌদি জোটের শর্ত মেনে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক কমিয়ে আনতে পাল্টা শর্ত সাপক্ষে সম্মতি দিয়েছে দোহা। পাল্টা শর্তে অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোকেও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক হ্রাসের অঙ্গীকার করতে বলা হয়েছে।

সৌদি জোটের শর্তের জবাবে কাতার দাবি করেছে, দেশটির ভূখণ্ডে ইরানি রিভোল্যুশনারি গার্ডের কোনও সদস্যের উপস্থিতি নেই।’ কাতারের দাবি, দোহার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই এ ধরনের শর্ত দেওয়া হয়েছে।

ইনফেরাআদ নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, জাতিসংঘের সন্ত্রাসী তালিকায় নাম থাকা গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগও অস্বীকার করেছে কাতার। কাতারের দাবি, তারা জাতিসংঘের সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের এক সক্রিয় সদস্য।

জঙ্গিবাদে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ এনে গত ৫ জুন কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং মিসরসহ কয়েকটি দেশ। এ অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ উল্লেখ করে তা নাকচ করে দেয় দোহা। কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার দুই সপ্তাহ পর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য আল জাজিরা বন্ধ করে দেওয়াসহ কাতারকে ১৩ দফা শর্ত বেঁধে দেয় চার দেশ। শর্ত পূরণে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়। সে সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ২ জুলাই রবিবার সেই সময়সীমা দুই দিন বাড়ানোর কথা জানায় সৌদি সূত্র। এরইমধ্যে সে সময়সীমা শেষ হয়েছে।

এদিকে বুধবার সকালে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টুইটার অ্যাকাউন্টে কাতারের জবাব হাতে পাওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ওই টুইটে বলা হয়, ‘কুয়েতের মন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-সাবাহ এর কাছ থেকে সৌদি মন্ত্রী আদেল আল-জুবায়ের কাতারের জবাব হাতে পেয়েছেন।’

সৌদি নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যথাসময়ে কাতারের কাছে জবাব পৌঁছে যাবে।’

/এফইউ/