নতুন করে কাতারবিরোধী জোটের রোষানলে পড়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা অ্যারাবিক। সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে নতুন করে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। দেশগুলোর অভিযোগ, আল-জাজিরার হাত রক্তে রঞ্জিত এবং সংবাদমাধ্যমটি বিদ্বেষ, সহিংসতা ও বৈষম্যকে উসকানি দিচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিডিয়া নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মন্ত্রী নোরা আল কাবি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানকে বলেন, “বিশ্বের কয়েকজন দুর্ধষ সন্ত্রাসীর জন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিয়েছে আল-জাজিরা।” তার মতে সংবাদমাধ্যমটির জন্য নতুন এবং বহিরাগতভাবে নজরদারি করার মতো সম্পাদকীয় নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, আল জাজিরার ওপর নতুন সম্পাদকীয় নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নোরা আল কাবির মন্তব্যটি ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। অর্থাৎ এ মন্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, আমিরাত এখন আর আল-জাজিরা টিভি স্টেশনটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার অবস্থানে অনড় নেই। এর আগে দেশটির মন্ত্রীরা বার বার আল-জাজিরা বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন।
গার্ডিয়ান জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত ৫ মিনিটের একটি ভিডিও তৈরি করেছে। ভিডিওতে দাবি করা হয়, গত মাসে লন্ডনের বোরো মার্কেটে হামলায় জড়িত তিন ব্যক্তির একজন ইউসেফ জাগবাকে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করার জন্য আল-জাজিরা অ্যারাবিক দায়ী। এ দাবির পেছনে তাদের যুক্তি হলো টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাগবার মা ও বোন টিভি স্টেশনগুলোকে দায়ী করেছিলেন। অন্য সাক্ষাৎকারগুলোতে জাগবার মা ছেলের জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হওয়ার জন্য প্রচণ্ডভাবে ইন্টারনেটকে দায়ী করেছিলেন।
এ ব্যাপারে আল-জাজিরার কাছ থেকে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি লন্ডনের চেথাম হাউসে বক্তব্য দিতে গিয়ে আল-জাজিরাকে ‘স্বাধীনধারার সংবাদ প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, সংবাদমাধ্যমটি আরব ও বিশ্ববাসীকে অঞ্চলের সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের তথ্য জানতে সহায়তা করে।
এদিকে বুধবার (১২ জুলাই) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন কাতারবিরোধী চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে জেদ্দাতে বৈঠক করেছেন। মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের প্রশংসা করেন টিলারসন।
তবে সমঝোতা স্মারকের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আল-কাবি। বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, তারা এই চুক্তিটিকে খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য মনে করছে না।
তিনি বলেন, "দুর্ভাগ্যজনকভাবে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে কাতার দুবার চুক্তি করে এবং সম্পূরক আরও একটি চুক্তি হয় যেখানে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদকে ঠেকানোর লড়াইয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সবই ছিল মিথ্যে প্রতিশ্রুতি। কার্যত কিছুই তারা করেনি। তাই আমরা তাদের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছি"।
তবে এই চুক্তিকে ইতিবাচকই মনে হচ্ছে বলে জানান তিনি। কিন্তু তা কিভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তার ওপরই নির্ভর সবকিছু করছে বলে মন্তব্য করেন কাবি।
/এফইউ/