সিরিয়ার সারমিন শহরে জরুরি চিকিৎসা সহায়তাকারী সংগঠন হোয়াইট হেলমেটসের কার্যালয়ে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে। শনিবার (১২ আগস্ট) ভোরের দিকে এ হামলা হয় বলে হোয়াইট হেলমেটসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। নিহতরা সবাই ওই সংগঠনের সদস্য। এদিকে একইদিন সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে একটি আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ২৩ বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। এখন পর্যন্ত দুটি হামলার একটিরও দায় স্বীকার করেনি কেউ।
ইদলিব প্রদেশের একটি শহর সারমিন। সম্প্রতি সেখানে চরম রক্ষণশীল আহরার আল শাম গ্রুপের সঙ্গে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট যোদ্ধাদের সংঘর্ষ হয়। আল-কায়েদার যোদ্ধারা এলাকার বেশিরভাগ অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ওই লড়াইয়ের অবসান হয়। তবে এখনও সেখানে উত্তেজনা চলছে। এরমধ্যে শনিবার হোয়াইট হেলমেটসের কার্যালয়ে বন্দুকধারীদের হামলা হয়।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, ওই সাত ব্যক্তিকেই মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হোয়াইট হেলমেটসের পরবর্তী শিফটের লোকরা কাজ করতে এসে দেখেন তাদের সহকর্মীদের মৃতদেহ পড়ে আছে। অবজারভেটরির প্রধান রামি আব্দুর রহমান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এটি অপরাধমূলক ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। নুসরা ফ্রন্টের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং ইদলিব নিরাপদ নয় বোঝাতেও এ হামলা হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় নসীব শহরে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আর্মি অব ইসলাম একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের ভেতরে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছে। সিরিয়ান অবজারভেটরি জানিয়েছে ওই হামলায় নিহতের সংখ্যা ২৩। আহত হয়েছে আরও ২০ জন। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আহমদ আল মাসালমেহ নামের বিরোধী অ্যাক্টিভিস্ট দাবি করেছেন, আর্মি অব ইসলামের ৮০ জন সদস্য যখন তাঁবুর ভেতর রাতের খাবার খাচ্ছিলেন তখনই আত্মঘাতী হামলা হয়। মাসালমেহর দাবি, ওই হামলায় ৩০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অন্তত ২০ জন। ছয়জন এখনও নিখোঁজ রয়েছে। এ হামলারও দায় স্বীকার করেনি কেউ।
/এফইউ/