শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী ব্যাননের অপসারণে সরব বিশ্ব মিডিয়া

স্টিভ ব্যাননমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান কৌশলবিদ স্টিভ ব্যাননকে অপসারণের ঘটনা আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিশ্ব মিডিয়ায়। হোয়াইট হাউসে প্রভাবের দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাননের অপসারণের পর চুপচাপ রয়েছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী পত্রিকাগুলোতে তার অপসারণ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসনে ব্যাননের বিভক্তিমূলক উপস্থিতির মতোই শুক্রবার দেশটির ডানপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলো দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। আর মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো গুরুত্ব সহকারে ব্যাননের অপসারণের খবর ও বিভিন্ন বিশ্লেষণ হাজির করছে।

উগ্র রক্ষণশীল রাজনৈতিক প্রচারমাধ্যম ব্রেইটবার্ট নিউজ নেটওয়ার্কের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান- এর আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব ছেড়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মুখ্য কৌশল প্রণেতা হয়েছিলেন স্টিভ ব্যানন। ব্রেইটবার্ট নিউজ নেটওয়ার্কে যোগ দেওয়ার সময় তিনি ব্রেইটবার্টকে ডানপন্থীদের ‘হাফিংটন পোস্ট’ বানানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত নভেম্বরে নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রচারণায় ভূমিকা রেখেছে স্টিভ ব্যানন-এর ওয়েবসাইট ব্রেইটবার্ট।

চলতি বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল- এনএসসি) থেকে ব্যাননকে অপসারণ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর ১৮ আগস্ট ২০১৭ শুক্রবার হোয়াইট হাউজের মুখ্য কৌশল প্রণেতার পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়ার খবর নিশ্চিত করেন হোয়াইট হাউসের অন্তর্বর্তীকালীন মিডিয়া প্রধান সারা হুক্যাবি স্যান্ডার্স। তাকে উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, শুক্রবারই হোয়াইট হাউসে ব্যাননের শেষ কর্মদিবস ছিল।

ব্যাননের বরখাস্তের খবর মূল ধারার ও ডানপন্থীসহ সব ধরনের সংবাদমাধ্যমে যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়েছে। ব্রেইটবার্ট দাবি করেছে, ব্যানন স্বেচ্ছায় হোয়াইট হাউস ছেড়েছেন। তবে নিউ ইয়র্ক পোস্ট ও ফক্স নিউজের মতো ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম কঠোরভাবে পরিস্থিতি তুলে ধরেছে।

ব্যাননের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে ব্রেইটবার্ট। প্রচারমাধ্যমটি কমলা রঙে শিরোনাম করেছে, হোয়াইট হাউজ ছাড়লেন ব্যানন। ব্যাননকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প- এমন খবর উড়িয়ে দিয়ে তারা দাবি করেছে ব্যানন নিজেই পদ ছেড়েছেন। বড় অক্ষরের শিরোনামে পত্রিকাটি লিখেছে, ব্যানন ৭ আগস্ট পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

ডানপন্থী ওয়েবসাইট ইনফোওয়ার্স ব্যাননের অপসারণে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হাজির করেছে। অ্যালেক্স জোনসের তত্ত্ব মতে, ব্যানন ছিলেন ‘প্রচলিত কাঠামো ও মূল ধারার বামপন্থী মিডিয়ার জন্য বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা। ট্রাম্পের প্রচারণার সময় দেওয়া অনেক প্রতিশ্রুতি ব্যাননের কারণেই বাস্তবায়িত হয়েছে।’

মূলধারার কয়েকটি ডানপন্থী সংবাদমাধ্যমে অবশ্য এ খবর পরিবেশনে কিছুটা উচ্ছ্বাসের মনোভাব দেখা গেছে। ডেইলি কলার-এর সাংবাদিক রজার স্টোন ব্যাননের বরখাস্ত নিয়ে নিজের লেখা প্রতিবেদন টুইট করে লিখেছেন, বিজয়! এতে রজার উল্লেখ করেছেন, এর মধ্য দিয়ে হোয়াইট হাউস কর্মীদের মান অনেক উন্নত হয়েছে।

কিছুটা কম ডানপন্থী হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যমগুলো ব্যাননকে নিয়ে খুব বেশি আগ্রহ দেখায়নি। দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট সাধারণভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক। পত্রিকাটি ব্যাননকে ‘শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীদের বোমা নিক্ষেপকারী’ এবং ‘উগ্র ডানপন্থীদের মুখপাত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ট্রাম্পের পছন্দের টেলিভিশন চ্যানেল ফক্স নিউজ’ও ব্যাননকে ছেড়ে কথা বলেনি। সংবাদমাধ্যমটিতে তাকে একজন রক্ষণশীল জনপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে যিনি ওয়েস্ট উইং-এর সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত হোয়াইট হাউস থেকে ছিটকে পড়েন।

কম ও বেশি ডানপন্থী সংবাদমাধ্যমের পুরনো দ্বন্দ্বটিও ব্যাননের বরখাস্ত নিয়ে পুনরায় উঠে এসেছে। ভ্যানিটি ফেয়ার-এর একজন প্রতিবেদক জানিয়েছেন, ব্যানন আবারও ব্রেইটবার্টে ফিরবেন এবং হোয়াইট হাউসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করবেন।

ব্যানন নিজেও অবশ্য পরে হোয়াইট হাউসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর কথা স্বীকার করেছেন। তবে এই যুদ্ধ হবে ট্রাম্পবিরোধীদের সঙ্গে। বলেছেন, ট্রাম্পের পক্ষে এই যুদ্ধে নামবেন তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ব্যাননের বরখাস্তের খবর প্রকাশের পাশাপাশি বিশ্লেষণ হাজির করেছে। গার্ডিয়ান লিখেছে, ব্যাননের অপসারণ বিশ্বায়নপন্থীদের জয়। কিন্তু এটা কতদিন ঠিকবে?

ট্রাম্পের সমালোচক হিসেবে পরিচিত নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, জনপ্রিয় ডানপন্থীদের প্রধান কণ্ঠ ব্যানন হোয়াইট হাউস ছেড়েছেন। তিনি এখন এজেন্ডা ছড়ানোর পুরনো দায়িত্বে ফিরছেন। ব্যানন হোয়াইট হাউসের বাইরে এসে শত্রুদের তালিকা তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ওয়াশিংটন পোস্ট শিরোনাম করেছে, ব্যাননকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলেন ট্রাম্প। পলিটিকো ব্যাননকে নিয়ে একাধিক খবর প্রকাশ করেছে। এছাড়া বিবিসি, রয়টার্স, আরটি, ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর-এর মতো আন্তর্জাতিক সবগুলো সংবাদমাধ্যম তার বরখাস্ত নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন-বিশ্লেষণ হাজির করেছে।

/এমপি/