পরমাণু ইস্যুতে আর কোনও আলোচনায় রাজি নয় উ. কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া বলেছে, পরমাণু কর্মসূচিসহ অন্যান্য অত্যাধুনিক অস্ত্রের উন্নয়নের পরিকল্পনা থেকে তারা এক ইঞ্চিও সরে আসবে না। একই সঙ্গে শত্রুর হামলার হুমকি মোকাবেলায় এ কর্মসূচি অত্যন্ত যুক্তিসংগত বলেও দাবি করেছে দেশটি। তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পার্সটুডের খবর থেকে এসব কথা জানা গেছে।
noname

পার্সটুডের খবরে উত্তর কোরিয়ার কূটনীতিক জো ইয়ং চোলকে উদ্ধৃত করে আলোচনা নাকচের খবর দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ নিরস্ত্রীকরণ ফোরামে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেছেন "নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য যেকোনে অস্ত্র  কর্মসূচিকে এগিয়ে নেয়া প্রতিটি দেশের আইনগত অধিকার। ফলে উত্তর কোরিয়া এই ইস্যু নিয়ে কখনোই আলোচনায় বসবে না।"

উ. কোরিয়ার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার বিপরীতে মার্কিন প্রস্তাবে সমর্থন দিয়ে জাতিসংঘের নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে পিয়ংইয়ং-ওয়াশিংটন উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। শুরু হয় দু্‌ই দেশের শীর্ষ নেতার পারস্পরিক হুমকিধামকি। এক পর্যায়ে উ. কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের গুয়ামের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। জবাবে দেশটিকে ‘ধূলায় মিশিয়ে দেওয়া’র হুমকি দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে এক পর্যায়ে দুই পক্ষই আপাতত কেউ কাউকে হামলা না করার ইঙ্গিত দেয়। 

তবে উ. কোরিয়ার কূটনীতিক জো ইয়ং চোল বলেন, "আত্মনির্ভরশীল পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পিয়ংইয়ং কোনো আলোচনা করতে ইচ্ছুক নয় এবং  জাতীয় পরমাণু শক্তিকে জোরদার করার যে কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে সেখান থেকে উত্তর কোরিয়া এক ইঞ্চিও সরে আসবে না। আমেরিকার পক্ষ  থেকে  উত্তর কোরিয়ার ওপর অব্যাহত পরমাণু হামলার হুমকি থাকায় তার দেশ পরমাণু কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে।" 

আমেরিকার সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার চলমান সামরিক মহড়া কোরিয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি আরো বিপদজ্জনক অবস্থার দিকে ঠেলে দেবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। চোল বলেন, এ মহড়া ‘আগুনে পেট্রোল ঢালার শামিল' এবং এতে উত্তেজনা আরো তুঙ্গে উঠবে। উত্তর কোরিয়ার এ কূটনীতিক আরো বলেন, তার দেশ এ মহড়াকে শত্রুতামূলক তৎপরতা ও যুদ্ধের অনুশীলন বলে মনে করছে।