উত্তর কোরিয়ায় দুই ‘কৃত্রিম' ভূ-কম্পন

উত্তর কোরিয়ায় রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পর পর দুটি ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছে। পিয়ং ইয়ং ক্ষেপণাস্ত্রে বহনযোগ্য নতুন একটি হাউড্রোজেন বোমা তৈরির দাবি করার পরই এ কম্পন অনুভূত হলো। দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, এটি কৃত্রিম কম্পন; উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষার কারণে এ ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। অবশ্য, এখনও উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে মন্তব্য করা হয়নি। পারমাণবিক পরীক্ষার কারণে আগেও বেশ কয়েকবার উত্তর কোরিয়ায় কৃত্রিম কম্পন অনুভূত হয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষার এলাকার স্যাটেলাইট ইমেজ
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) উত্তর কোরিয়ায় ৬.৩ মাত্রার একটি ভূকম্পন অনুভূত হওয়ার কথা জানায়। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ২৩ কিলোমিটার। এটি বিস্ফোরণ হতে পারে বলেও মনে করছে ইউএসজিএস। সংস্থাটি জানায়, ‘উত্তর কোরিয়া আগে যে এলাকায় পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ করেছে ওই এলাকার কাছের এ কম্পন বিস্ফোরণ থেকে হতে পারে। যদি এটি বিস্ফোরণ হয়ে থাকে তবে ইউএসজিএস ন্যাশনাল আর্থকোয়েক ইনফরমেশন সেন্টার এর ধরণ নির্ধারণ করতে পারবে না, এটি পারমাণবিক নাকি অন্য কিছুর বিস্ফোরণ তা শনাক্ত করতে পারবে না।’

চীন দাবি করেছে, দেশটি উত্তর কোরিয়ায় ৪.৬ মাত্রার দ্বিতীয় আরেকটি ভূ-কম্পন শনাক্ত করেছে। এক বিবৃতিতে চীনের আর্থকোয়েক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানায়, প্রথম ভূকম্পনটি হওয়ার ৮ মিনিটের মাথায় দ্বিতীয় কম্পন অনুভূত হয়েছে।

প্রথম ভূকম্পন শনাক্ত হওয়ার পর পরই দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী দাবি করে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর এলাকার কাছে একটি কৃত্রিম কম্পন অনুভূত হয়েছে। পারমাণবিক পরীক্ষাজনিত সংকট মোকাবিলাকারী দলকে প্রস্তুত রাখার কথাও জানিয়েছে দেশটি। 

এর আগে রবিবার আগের চেয়ে আরও বেশি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দাবি করে উত্তর কোরিয়া। দেশটির দাবি, এটি একটি হাউড্রোজেন বোমা এবং একে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে স্থাপন করে হামলা করা যাবে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থায় প্রকাশিত এক ছবিতে দেখা গেছে, দেশটির নেতা কিম জং উন নতুন হাউড্রোজেন বোমাটির দিকে তাকিয়ে আছেন। উত্তর কোরিয়ার দাবি, নতুন এ পরমাণু বোমাটি আরও অনেক বেশি বিধ্বংসী ও ক্ষমতাসম্পন্ন। এ বোমাকে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপনাস্ত্রের মাধ্যমে নিক্ষেপ করা যাবে বলেও দাবি করেছে দেশটি।