ইরাকের স্বায়ত্ত্বশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য অনুষ্ঠিত গণভোটে স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিয়েছে শতকরা ৯৩ ভাগ মানুষ। তবে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-এবাদি গতকাল (বুধবার) গণভোটের ফলাফল বাতিল করার দাবি জানান।
নির্বাচন কমিশনার হেন্দ্রিন মোহাম্মাদ দাবি করেছেন, বিচ্ছিন্নতার পক্ষে শতকরা ৯৩ ভাগ ভোট পড়েছে। তিনি আরও দাবি করেছেন, মোট ভোটারের শতকরা ৭২ ভাগ ভোট দিয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর কুর্দি অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট মাসুদ বারজানি বলেছেন, এখনই তারা কুর্দিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করতে চান না বরং এই নির্বাচনের ফলাফল হবে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তি।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-এবাদি গতকাল (বুধবার) গণভোটের ফলাফল বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই নির্বাচন যেহেতু সম্পূর্ণভাবে সংবিধান বিরোধী এবং অবৈধ সেহেতু গণভোটের ফলাফল কোনো আলোচনার ভিত্তি হতে পারে না। তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, পুরো কুর্দিস্তান অঞ্চলে সংবিধানের অধীনে কেন্দ্রীয় আইন চালু করা হবে।
এদিকে, আঞ্চলিক সরকারকে বিমানবন্দর হস্তান্তরের জন্য সময় বেঁধে দিয়েছে ইরাক সরকার। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী হুমকি দিয়েছেন, বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ না ছাড়লে কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার (কেআরজি) এর ওপর আন্তর্জাতিক বিমান অবরোধ আরোপ করবে। বিমানবন্দর হস্তান্তরের জন্য আঞ্চলিক সরকারকে শুক্রবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি।
শুক্রবার নাগাদ কুর্দিস্তান সরকার যদি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সীমান্ত চৌকিগুলোর নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর না করে ইরাকি কুর্দিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে বাগদাদ।
তুরস্ক ও ইরানের মতো প্রভাবশালী আঞ্চলিক দেশগুলোর চাপ উপেক্ষা করে ২৫ সেপ্টেম্বর কুর্দিস্তানের স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৫২ লাখ ভোটারের ৭২ শতাংশই ভোটাভুটিতে তাদের রায় দেন বলে জানায় নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার হায়দার আল আবাদির হুঁশিয়ারির কিছু সময় পরই কুর্দিশ নেতা মাসুদ বারজানি দাবি করেন, গণভোটে জনগণ কুর্দিস্তানের স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিয়েছে।