ডন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, দৃশ্যত রেক্স টিলারসনের এ সফরে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসবাদের ব্যাপারে পাকিস্তানকে কঠোর বার্তা দেওয়া হবে।
পাকিস্তানের বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতে টিলারসন বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান আমাদের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামাবাদের সঙ্গে বড় রকমের অর্থনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার সুযোগ রয়েছে। তবে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই এবং পাকিস্তানের ভেতরে নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তোলা উগ্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইসলামাবাদকে সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে।
জবাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহীদ খাকান আব্বাসি বলেছেন, সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লড়াইয়ে আমরা ফলাফল দিয়েছি। আমেরিকার সঙ্গে আমরা সুসম্পর্ক চাই। তারা ইসলামাবাদের ওপর আস্থা রাখতে পারে। কারণ সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে পাকিস্তান আমেরিকার কৌশলগত মিত্র।
শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও পাকিস্তানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনেকটা লো প্রোফাইলে স্বাগত জানানো হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডির সামরিক বিমানঘাঁটিতে তাকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতরের মধ্যম সারির একজন কর্মকর্তা। মার্কিন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য ইসলামাবাদ সাধারণত যে ধরনের অভ্যর্থনার ব্যবস্থা করে থাকে এটা তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
রাওয়ালপিন্ডি থেকে টিলারসনকে গাড়িতে করে ইসলামাবাদের মার্কিন দূতাবাসে নেওয়া হয়। পরে তিনি সেখানে দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। পাকিস্তান সফর শেষে ভারত যাবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
চলতি বছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগান বিষয়ক মার্কিন নীতি ঘোষণার পর এই প্রথম আমেরিকার শীর্ষ পর্যায়ের কোনও কর্মকর্তা পাকিস্তান সফর করলেন। তবে ওই সময়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে ইসলামাবাদ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায়। সে সময় দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইসলামাবাদ সফর স্থগিত করে দেয় পাকিস্তান।
আফগান নীতি ঘোষণার সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে পাকিস্তান যথেষ্ট ভূমিকার রাখছে না; বরং দেশটি উগ্র সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বিপরীতে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের জন্য ভারতের ব্যাপক প্রশংসা করেন ট্রাম্প। সূত্র: ডন, পার্স টুডে।