গত এপ্রিলে সিরিয়ায় সারিন গ্যাস দিয়ে রাসায়নিক হামলায় দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদই দায়ী বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এক প্রতিবেদনে তারা জানায়, তারা নিশ্চিত যে দামেস্কই ৪ এপ্রিল হামলার জন্য দায়ী। শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘ এবং রাসায়নিক অস্ত্র বিরোধী সংস্থার যৌথ প্রতিবেদন জয়েন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজমে এই তথ্য তুলে ধরা হয়।
৪ এপ্রিল খান সেইখুন শহরে সারিন গ্যাস হামলায় ৮০ জনেরও বেশি প্রাণ হারান। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো এরজন্য প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সরকারকে দায়ী করলেও সিরিয়া বরাবরই এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের সমর্থন দিয়েছে রাশিয়াও।
জাতিসংঘের মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হেলি বলেন, আজকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে এটাই নিশ্চিত হওয়া যায় যে আমরা অনেকদিন ধরে যা বলে আসছিলাম তা সত্যি। তিনি বলেন, ‘এবার আমরা স্বাধীন তদন্ত দল থেকে এমন তথ্য পেলাম। আর কোনও সংশয় থাকা উচিত নয়।’
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ‘এমন ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধের তীব্র নিন্দা জানায় যুক্তরাজ্য। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আসাদ সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানাই আমরা।’
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জাতিসংঘ পরিচালক লুইস চারবান্যু বলেন, আাজকের প্রতিবেদনের মাধ্যম এটা নিয়ে আর কোনও বিতর্ক করার অবকাশ থাকলো না যে কে হামলা চালিয়েছে।
৪ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে বিদ্রোহী অধ্যুষিত খান শেইখুন শহরে চালানো ওই রাসায়নিক হামলায় নিহত হন অন্তত ৮০ জন। এ হামলার জন্য আসাদ সরকারকে দায়ী করে সিরিয়ার বিমান ঘাঁটিতে হামলার নির্দেশ দেন ট্রাম্প। সে অনুযায়ী ৭ এপ্রিল স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোরে হোমস প্রদেশের আল-শায়রাত বিমানঘাঁটিতে আছড়ে পড়ে ৫৯টি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র। তবে ওই বিমানঘাঁটিতে বিপুল পরিমাণ রুশ সেনার উপস্থিতি থাকলেও হতাহতের মধ্যে কোনও রুশ সেনা ছিল না। আবার হতাহতের সংখ্যার সঙ্গে হামলার ব্যাপকতাও সামঞ্জয্যপূর্ণ মনে হয়নি। ৫৯টি ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় নিহত হন ছয় সিরীয় সেনা।