দ্বিগুণ হারে অপুষ্টিতে ভুগছে রোহিঙ্গা শিশুরা: ইউনিসেফ

কক্সবাজারের কুতুপালং শিবিরে গত সপ্তাহে করা এক জরিপে দেখা গেছে সেখানে থাকা রোহিঙ্গা শিশুদের ৭.৫ শতাংশই জীবনবিনাশী চরম অপুষ্টিতে ভুগছে। গত মে মাসের হিসাবের তুলনায় এ হার দ্বিগুণ। শুক্রবার (৩ নভেম্বর) জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের এক বিবৃতিতে এমন পরিসংখ্যান উপস্থাপন করে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

রোহিঙ্গা শিশু
ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি এডুয়ার্ড বিজবেডার বলেন, ‘মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে ভয়াবহ নৃশংসতা থাকে প্রাণে বাঁচা এবং সেখান থেকে বাংলাদেশে আসতে সক্ষম হওয়া যেসব রোহিঙ্গা শিশু শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে-তারা এরইমধ্যে আরেক বিপর্যয়ে পড়েছে। যারা চরম অপুষ্টিতে আক্রান্ত তারা এখন মৃত্যু ঝুঁকিতে রয়েছে; তারা এমন এক কারণে মৃত্যু ঝুঁকিতে রয়েছে যা প্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসা উপযোগী।’

ইউনিসেফ জানায়, গত অক্টোবরের ২২ তারিখ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত ৪০৫টি পরিবারের মধ্যে জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর ও আগে আসা পরিবারগুলো।

নভেম্বরে অন্য এলাকায় আরও দুটি পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি জরিপ করা হবে অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরে। তিনটি জরিপে প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ধারণা করা হবে পরবর্তী মাসগুলোতে কত সংখ্যক শিশু চরম অপুষ্টিতে ভুগতে পারে এবং এ ব্যাপারে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে নির্দেশনা আসতে পারে।

ইউনিসেফের বিবৃতিতে বলা হয়, রাখাইনের উত্তরাঞ্চলের শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির হার জরুরি অবস্থাজনিত সীমা অতিক্রম করে ফেলেছিল। রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার সময় দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া এবং এখানকার আশ্রয় শিবিরের করুণ দশার কারণে সেইসব শিশুর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। কুতুপালং ক্যাম্পের প্রায় ২৬,০০০ মানুষ এখন প্রচণ্ডরকমের খাদ্য ও পানি সংকট এবং অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির মুখে রয়েছে এবং উচ্চ মাত্রায় ডায়রিয়া ও শাসপ্রশ্বাসজনিত প্রদাহে ভুগছে। সেখানকার শিশুরা হামে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বিজবেডার বলেন, ‘মানবিক সহায়তায় জড়িত থাকা সংগঠনগুলোতে এসব চরম অপুষ্ট শিশুর সুরক্ষা ও চিকিৎসায় এগিয়ে আসতে হবে। এর জন্য এ সংকটের প্রতি আমাদের আরও মনযোগী হতে হবে এবং এ সংকট মোকাবিলায় সহায়তা সংগ্রহ করতে হবে। এসব শিশুর এখনই সহায়তা প্রয়োজন।’

পুষ্টিজনিত জরিপটি পরিচালনার ক্ষেত্রে ইউনিসেফকে সহযোগিতা করেছে-অ্যাকশন সেন্টার লা ফাহিম, সেভ দ্য চিলড্রেন, ইউএনএইচসিআর এবং ডব্লিউএফপি। দ্য সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল ইন আটলান্টা কারিগরি সহায়তা দিয়েছে।



ইউনিসেফ ও সহযোগী সংগঠনগুলো দুই হাজারেরও বেশি অপুষ্ট শিশুকে ১৫টি চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা দিচ্ছে, বর্তমানে ছয়টি অতিরিক্ত কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া শনাক্ত করা ও চিকিৎসা দিতে সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে কাজ করছে ইউনিসেফ। চলতি মাসে ভ্যাকসিন কর্মসূচি এবং পুষ্টিবিষয়ক ক্যাম্পেইন পরিচালনার কথা রয়েছে।